Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে এক বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে যেতে পারত, যেখান থেকে আর ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব বলে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইতিমধ্যে ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

এক বিশ্লেষণে জানা যায়, এই সংঘাতের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। যেকোনো বড় ধরনের উত্তেজনা সরাসরি তাদের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। যা বাস্তবায়িত হলে এসব অঞ্চলে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো এবং সাধারণ মানুষের জীবন চরম দুর্ভোগে পড়ত।

তবে এর জবাবে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, তারা পশ্চিম এশিয়ার সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালাবে। যার মধ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোও রয়েছে।

ইরনের এই বার্তাকে অঞ্চলটির নেতারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ পানযোগ্য পানি আসে লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে পানির সরবরাহ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ জীবনযাত্রার মৌলিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তা এমন এক সংঘাতের জন্ম দিত, যেখান থেকে আর ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।

ফলে এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে আগামী ৫ দিন সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, তারাও ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার বিষয়ে অবগত।

ইসরায়েল সম্ভবত ওয়াশিংটনের পথ অনুসরণ করে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখবে।