রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিজেদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মনজুর হোসাইন মাহি এসব দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো—
১. হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. জড়িতদের মধ্যে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
৩. সারা দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা মামলা দায়ের করতে শাহবাগ থানার উদ্দেশে রওনা হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সভাপতি মনজুর হোসাইন মাহি বলেন, ঘটনাস্থলে জাগোনিউজের প্রতিনিধি মো. ফেরদৌস এবং রাইজিংবিডির প্রতিনিধি সৌরভ ইসলামকে ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। পরে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর রহমান সামিথ তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। এর পরপরই সাংবাদিক সমিতির অন্যান্য সদস্যরা শাহবাগ থানায় জড়ো হন।
তিনি আরও বলেন, পরে সামিথ আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে থাকে। এর মধ্যেই হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সভাপতি আবুজার গিফারী ইফাত এসে ‘ভাইরে মারছে’ বলে চিৎকার করেন। এরপরই একটি মব তৈরি হয় এবং ছাত্রদলের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী আমাদের ওপর হামলে পড়ে। আমরা কয়েকজন হামলাকারীকে শনাক্ত করেছি।
মাহি জানান, নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গালাগাল করা হয়।
তিনি হামলায় জড়িত হিসেবে ছাত্রদলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাকিব বিশ্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলায়মান হোসেন রবি, সাজ্জাদ হোসেন, সূর্য সেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সদস্য কারিব চৌধুরী ও জাহিন ফেরদৌস জামি, কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিতুর রহমান পিয়াল প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, আমার পায়ে লাথি মারা হয়েছে। পরে আমি মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে যাই, এরপর আমাকে মারধর করা হয়। সেখানে তারা ‘শিবির ও জার্নালিজম একসঙ্গে চলে না’—এমন স্লোগান দেয়।
তিনি আরও বলেন, গতকালও আমাদের ছয়জন সাংবাদিককে দুটি আলাদা ঘটনা কাভার করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হামলার শিকার হলাম। এ ঘটনায় আমরা আগামীকাল সকাল ১০টায় উপাচার্যের কাছে যাব।