গরম না কমলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং লোডশেডিং বাড়তে পারে। সরকারি হিসাবে বৃহস্পতিবার বিকালে সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের মতো। এদিকে এদিন সকালে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছেন, মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। তাই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি বলেন, গরমে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। সে তুলনায় আপাতত বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। তাই বৃহস্পতিবার (গতকাল) সারা দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল। তবে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের একটি ইউনিট উৎপাদনে এলে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৯০০ মেগাওয়াট বাড়ানো যাবে। তখন লোডশেডিং কমে আসবে।
সারা দেশে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। রাজধানী ঢাকায় এখনো তেমন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে না। শহর ও গ্রামের মধ্যে এই বৈষম্য নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের অনুমোদন দিতে গত বুধবার বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে একটি ফাইল পাঠানো হয়েছে। তিনি সেই ফাইলে সই করেছেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সংসদে বলেছেন, রাজধানীতে লোডশেডিং হবে। সচিবালয়ের ব্রিফিংয়ে যুগ্ম সচিব সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণে বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কত? একেক সংস্থা একেক তথ্য দিচ্ছে-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, এখন বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে সরকার কৃষি সেচ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশকিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। শিগ্গিরই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের লোড ঠিক করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহ দেশের খাদ্যশস্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়ে ধান পাকবে। তাই এ সময়টা সেচে গুরুত্বের সঙ্গে বিদ্যুৎ দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের এ সময়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। এবার গরম কিছুটা বেড়েছে। তাহলে কি এবার ব্যাপক লোডশেডিং হবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যন্ত্রের তো কোনো বিশ্বাস নেই। এবার অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেশিন ট্রিপ করেছে। বিশেষ করে আদানিসহ বিভিন্ন ইউনিটের ট্রিপ করেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনায় আমলাদের ব্যর্থতা আছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, বিদ্যুৎ সচিব ৭ এপ্রিল রাতে জুমে বৈঠক করে এবারের বিদ্যুৎ সরবরাহের সব ঠিক করেছেন। আমলাদের কোনো ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ঠিকমতো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একইভাবে ফার্নেস অয়েল এবং কয়লা সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অনেক কেন্দ্রে ঠিকমতো জ্বালানি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে সরকারের। এজন্য প্রয়োজন ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ কারণে এখন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের কম। এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু সেটাও দেওয়া হচ্ছে না। তাই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং বাড়ছে।
এদিকে পাওয়ার গ্রিড অব কোম্পানি-পিজিসিবি’র ওয়েব পেইজে লোডশেডিংয়ের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন করার পর গতকাল বিকালে হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য ওই পেইজ উধাও হয়ে যায়। পরে অবশ্য তা আবার প্রকাশ করা শুরু করে পিজিসিবি।