খুলনায় মামলার নথি পেতে দেরি হওয়ায় বিচারককে গালিগালাজ করেছেন আবুল হোসেন হাওলাদার নামে বিএনপিপন্থি এক আইনজীবী। বিচারকাজ চলাকালে ২০-২৫ জন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সামনে এমন আচরণের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন বিচারক। পরে তিনি এজলাস ছেড়ে চলে যান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে আদালতের কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. ফরিদুজ্জামানের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিচারক বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আবার এজলাসে ফেরেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, লবণচরা থানার সিআর ১৮৪/২৫ মামলার আসামি বাবু শেখের জামিন নিতে ফরিদুজ্জামানের আদালতে আসেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার। কিন্তু ওই মামলার ফাইল পাওয়া যাচ্ছিল না এজলাসে। এতে ক্ষুব্ধ হন আবুল হোসেন। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি এজলাস কক্ষে থাকা ২০-২৫ আইনজীবী ও আসামিদের সামনে বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বিচারককে গালিগালাজ করেন আইনজীবী আবুল হোসেন। বিচারক অপমানিত বোধ করে এজলাস ছেড়ে চলে যান নিজ কক্ষে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুনরায় এজলাসে ফেরেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন আইনজীবী জানান, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন হাওলাদার ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুজ্জামানের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। একজন বিচারকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অসভ্যতার শামিল। তিনি বিভিন্ন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী তাপস পাল জানান, লবণচরা থানার একটি মারামারি মামলার আসামির জামিন নিতে এসেছিলেন আবুল হেসেন হাওলাদার। তার ফাইল অন্য আদালতে থাকায় সেটি পরে আমাদের আদালতে আনা হয়। এর আগেই ওই আইনজীবী আদালতে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তার আচরণ ছিল খুবই আপত্তিকর।
বিকালে আদালত চত্বরে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন হাওলাদার জানান, আদালতে তিনি দর্শক হিসেবে ছিলেন। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি।
বিকাল ৫টার পর বিচারকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মাসুম রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মশিউর রহমান নান্নুসহ কয়েকজন নেতা। তারা আধা ঘণ্টার বেশি সময় বিচারকের সঙ্গে কথা বলেন। বের হওয়ার সময় সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তাদের ভাষ্য, এটা আমাদের নিজস্ব বিষয়। আদালতে মাঝেমধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। আগামী রবিবার আমরা নিজেরা আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করে নেবো।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবো।