Image description
ঢাকা-বরিশাল রুট

ঢাকা-বরিশাল রুটে সরকারের ঘোষণার চেয়ে ১১ গুণেরও বেশি বেড়েছে বাসের ভাড়া। এ রুটের ১৭০ কিলোমিটার পথে মোট ১৮ দশমিক ৭০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। সেই হিসাবে সরকার নির্ধারিত নতুন ভাড়া ৩৭৯ দশমিক ১ টাকা হলেও বাসমালিকরা টিকিটপ্রতি নিচ্ছেন ৬০০ টাকা করে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে ভাড়া বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসসংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে লঞ্চের ভাড়াও বেড়েছে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। লঞ্চমালিকরা আবারও ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। সরকার মেনে নিলে আরও একদফা টিকিটের দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল রুটে আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৬০ দশমিক ৪ টাকা হলেও টিকিটপ্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হতো ৫৫০ টাকা। সরকারি ঘোষণার আগে থেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হতো এ অঞ্চলের বাসযাত্রীদের। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সড়ক পরিবহণ দপ্তর থেকে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী আন্তঃজেলা রুটে কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। সেই হিসাবে ঢাকা-বরিশাল রুটের ১৭০ কিলোমিটার পথের ভাড়া বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭০ টাকা। ফলে এ রুটে নতুন ভাড়া হওয়ার কথা ৩৭৯ টাকা। কিন্তু সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১১ গুণেরও বেশি ২২১ টাকা বাড়িয়ে টিকিটপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ৬০০ টাকা।

অন্যদিকে কয়েক বছর আগে ঘোষণা করা সরকারি ভাড়া তেলের দাম বাড়ার পরে কার্যকর করেছেন লঞ্চমালিকরা। আগে সরকারি রেটের চেয়ে কম রেটে ৩০০ টাকায় ডেকে যাত্রী নিত লঞ্চগুলো। বর্তমানে ডেকে যাত্রীদের টিকিটপ্রতি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩৫০ টাকায় অন্যদিকে ১ হাজার টাকার সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২০০০ টাকার বদলে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফ্যামিলি, শৌখিন, সেমি-ভিআইপি ও ভিআইপি কেবিনে ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের আগে এভাবে ভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

তবে লঞ্চমালিকরা বলছেন, আগে থেকেই তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকায় যাত্রী পরিবহণ করত। এখন তেলের দাম বাড়ার কারণে আগের সরকারি ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। রোববার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নৌপথের ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সরকারকে লঞ্চমালিকরা চিঠি দেন। এ নিয়ে বৈঠক হবে, সেই বৈঠকে মালিকপক্ষের দাবি মেনে নিলে ভাড়া আরও একদফা বাড়বে বলে ধারণা করছেন লঞ্চমালিকরা।

বাসযাত্রী মেহেদি হাসান মামুন বলেন, আগেই সরকারি ভাড়ার চেয়ে বেশি নিত। এখন জ্বালানি সংকট দেখিয়ে সরকারি ভাড়ার চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। লঞ্চযাত্রী সজল মাহমুদ বলেন, সরকার ভাড়া বাড়ানোর আগেই মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। সরকার ভাড়া বাড়ালে ফের বাড়বে টিকিটের দাম। তাই এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানান তিনি। একাধিক বাসের কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে লোকসান ঠেকাতে ন্যায্য ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বরিশাল জেলা বাসমালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, কেন ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলতে পারছি না। এ বিষয়ে বাসমালিকরা ভালো বলতে পারবে।

কেন্দ্রীয় লঞ্চমালিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি রেজিন উল কবির বলেন, আগে আমরা সরকারি ভাড়ার চেয়ে কম টাকায় যাত্রী পরিবহণ করতাম। এখন টিকিটের দাম বাড়িয়ে অতীতের সরকারি ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। তাছাড়া লঞ্চের যত্রাংশের দামসহ সামগ্রিক খরচও আগের চেয়ে বেড়েছে।

বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, সরকারের উচিত বিষয়টি বিশেষভাবে পুনর্বিবেচনা করা। কারণ জ্বালানির সঙ্গে যাতায়াতসহ জীবনযাত্রা নির্ভরশীল।