Image description

সেলিম খানের ছেলে, বলিউড অভিনেতা সালমান খানের ছোট ভাই সোহেল খানকে বিয়ে করেছিলেন সীমা সচদেব। ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় এই বিয়েতে আপত্তি ছিল সীমার পরিবারের। তবে প্রেমের টানে শেষ পর্যন্ত হিন্দু রীতিতেই বিয়ে করেছিলেন সোহেল ও সীমা।

সোহেল ও সীমার প্রথম দেখা হয়েছিল দিল্লির একটি বিয়েবাড়িতে। প্রথম দেখাতেই সীমার প্রেমে পড়ে যান সোহেল। এরপর প্রায় চার মাস তাঁদের কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। পরে এক রেস্তোরাঁয় আবার দেখা হয় দু’জনের। এরপর ধীরে ধীরে গভীর হয় তাঁদের সম্পর্ক।

সোহেলকে বিয়ে করার কথা জানালে আপত্তি জানায় সীমার পরিবার। দু’জন ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় সামাজিক ও পারিবারিক নানা জটিলতার আশঙ্কা ছিল তাঁদের। সেই সময় সালমান খানকে ঘিরে নানা বিতর্কও ছিল। ফলে খান পরিবারের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না সীমার বাবা।

পরিবারকে রাজি করাতে না পেরে এক রাতে সীমাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসেন সোহেল। তখন প্রায় ভোররাত। রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন সেলিম খান। পুরো বিষয়টি তাঁকে জানান সোহেল। কিন্তু বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সীমাকে বাড়িতে রাখা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন সেলিমও।

এরপরই সোহেল ও সীমা সিদ্ধান্ত নেন, সেই রাতেই বিয়ে করবেন তাঁরা। সোহেল তাঁর বন্ধুদের ফোন করে দ্রুত একজন মৌলবি জোগাড় করতে বলেন। কিন্তু ভোররাতে কোনো মৌলবি না পাওয়ায় বন্ধুরা নাকি এক মৌলবিকে জোর করে নিয়ে আসেন।

 

তবে সীমার পরিবার চেয়েছিল, তাঁদের মেয়ের বিয়ে হিন্দু রীতিতেই হোক। পরে সীমা তাঁর বাবার কাছে গেলে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মেয়ে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের ইচ্ছেতেই হিন্দু মতে বিয়ে হয় সোহেল ও সীমার।

১৯৯৮ সালে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। বিয়ের দুই বছর পর তাঁদের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন বলিউডের অন্যতম আলোচিত দম্পতি ছিলেন তাঁরা। অনেকেই তাঁদের বলিপাড়ার অন্যতম সেরা জুটি বলেও মনে করতেন।

তবে প্রায় ২৪ বছর পর ভেঙে যায় তাঁদের দাম্পত্য। বিচ্ছেদের পর এখন দু’জনের পথ আলাদা। সম্প্রতি ‘অ্যালায়েন্স’ নামের একটি রিয়্যালিটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন তাঁরা। সেখানে সোহেল জানান, বিচ্ছেদের পরও তাঁরা একে অপরের খেয়াল রাখছেন—বিষয়টি তাঁর ভালো লাগে।