Image description

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড মূলত একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যা দেশটির ইসলামি শাসন ব্যবস্থার প্রতি ভেতর ও বাইরে থেকে আসা যে কোনো হুমকিকে প্রতিরোধে কাজ করে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সংস্থাটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছেন ইরান যুক্তরাজ্যে থাকা এমন আরও দশ ব্যক্তিকে টার্গেট করেছে যার মধ্যেই একজন ইরানি সাংবাদিকও রয়েছেন। ওদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্নালেনা বায়েরবক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উভয়েই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে করে ইরানি সংস্থাটিকে সন্ত্রাসী তালিকায় ফেলা হয়।

এ প্রসঙ্গে তারা সাম্প্রতিক সময়ে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে পন্থায় বিক্ষোভ দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটিকেও তুলে ধরেছেন। মাহসা আমিনি দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটকের পর পুলিশী হেফাজতে মারা যান।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ২০১৯ সালেই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে হেজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার অভিযোগ তুলে।

বিপ্লবী গার্ড কে?

বিপ্লবী গার্ড ইরানের সেনাবাহিনীর একটি শাখা। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সাধারণ সেনাবাহিনীর পাশাপাশিই তারা কাজ করে। বিপ্লবী গার্ড সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে সরাসরি জবাব দেয়। এ বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক অভিযান এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

বর্তমানে বিপ্লবী গার্ডের ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ সেনা আছে ৬ লাখের বেশি।

বিপ্লবী গার্ড ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং পারমাণবিক কার্যক্রম দেখে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ, হুথিসহ যেসব প্রক্সি গ্রুপ আছে তাদের সহায়তা করে।

২০১৯ সালে বিপ্লবী গার্ডকে প্রথম দেশ হিসেবে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরমাধ্যমে প্রথমবার অন্য আরেকটি দেশের সরকারি বাহিনীকে সন্ত্রাসীর তকমা দেয় তারা।

সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও বিপ্লবী গার্ড গভীরভাবে যুক্ত।

সূত্র: আলজাজিরা