Image description

রেলওয়েতে লোকোমোটিভ আর কোচ সংকট বহু আগে থেকেই। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার রেলের কোচ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) কেনার বিষয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংকটের মাঝেই রেল বহরে ১০০ রেল ইঞ্জিন যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। আবার ভারত থেকে রেলের ২০০ ব্রডগেজ ক্যারেজ কিনবে সরকার। ২শ’ কোচ পর্যায়ক্রমে আসবে রেল বহরে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এইসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কোচগুলো পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণে উদ্যোগ নেবে। প্রথম ধাপে ২০টি কোচ এই মাসের শেষে যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র।

রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে দেশে তিন হাজার ৪২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ ১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার, ব্রডগেজের পরিমাণ ১ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার এবং ডুয়ালগেজের পরিমাণ ৭৭০ দশমিক ০৬ কিলোমিটার। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে বাস্তবতার নিরিখে ব্রডগেজ এবং ডুয়ালগেজ নতুন রেললাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান আছে। ইতিমধ্যেই ব্রডগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য একটি প্রকল্প চলমান আছে। ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০টি ডুয়েলগেজ রেল ইঞ্জিন কিনছে সরকার। যা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটিও হয়েছে গত বছর।

সমপ্রতি ভারত থেকে রেল ক্যারেজ কেনার কথা জানিয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চলতি বছরেই ভারত থেকে রেলের ২০০ ব্রডগেজ কোচ আসার কথা রয়েছে। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এই কোচগুলো আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সঙ্গে ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু আছে। ভারত থেকে কোচগুলো আসা শুরু হলে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। যাত্রীদের আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণ নিশ্চিত এবং মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অদূর ভবিষ্যতে ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ও ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করার জন্য প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলমান আছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আশা করছি, ভারত থেকে যে কোচ আসার কথা সেগুলো এই মাস থেকেই আসা শুরু হবে। বাকি কোচগুলো ধীরে ধীরে আসবে। আগামী বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। আমরা চাচ্ছি, যাতে এই কোচগুলো আগেই চলে আসে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আলাদা আলাদা কয়েকটি প্রকল্পের আওতায় ১০০ রেল ইঞ্জিন কেনার পরিকল্পনা হচ্ছে। এরমধ্যে এডিবি’র অর্থায়নে ৩০টি, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ৩০টি, চীনের অর্থায়নে ২০টি এবং জিওবিতে ২০টি লোকোমোটিভ কিনতে কাজ করছে রেলওয়ে

 

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছে, এডিবি’র অর্থায়নের যে ৩০টি ইঞ্জিন আসবে সেগুলোর জন্য ইতিমধ্যেই বিস্তারিত নির্দেশনা ও মানদণ্ড মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর তা এডিবিতে যাবে। অন্যদিকে, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে যে ৩০টি রেল ইঞ্জিন বা লোকো কেনার কথা চলছে, তার বিষয়ে প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এর বাইরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে আরও ২০টি লোকো কেনার বিষয়েও কাজ চলছে। এর জন্য জুন মাসের মধ্যেই প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেয়া হবে।

চীনের অনুদানে অনাগ্রহের অভিযোগ: রেলের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, গত বছর চীন সরকার অনুদান হিসেবে ২০টি রেল ইঞ্জিন দিতে চাইলেও রেলের রোলিং স্টক বিভাগের কর্মকর্তারা অনুদানের এইসব ইঞ্জিন নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। অভিযোগ আছে, রোলিং স্টকের কর্মকর্তারা চীনের অনুদানের ইঞ্জিনের মানের বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন। ফলে অনুদানের পাওয়া লোকোমোটিভ নেয়ার প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, আমি দায়িত্বে আসার পর চীনের অনুদানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে নতুন করে কনভিন্স করে চীনের অনুদান প্রাপ্তির বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে।