মাত্র একশ দিনের একটু বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। ইতোমধ্যেই আসরটির টিকিট কেটে ফেলেছে ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার খবর, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের সরাসরি সংঘাত—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে: বিশ্বকাপে কি আদৌ খেলবে ইরান? আর যদি না খেলে, তখন কী হবে?
এই প্রতিবেদনেই থাকছে পুরো চিত্র।
ইরানের অবস্থান কী?
ইরান এবারের বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ জি’-তে খেলবে। গ্রুপটিতে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশর। তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে-ক্যালিফোর্নিয়া ও সিয়াটলে।
কিন্তু সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আসেনি।
এখানে কয়েকটি সম্ভাবনা খোলা রয়েছে:
- ইরান রাজনৈতিক কারণে বয়কট করতে পারে
- নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় দল না-ও যেতে পারে
- মার্কিন প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি জটিল করতে পারে
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ইরানি নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ আইনি পথে আপাতত কোনো সরাসরি বাধা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য মুখোমুখি
আরেকটি সংবেদনশীল প্রশ্ন—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কি মাঠে একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে?
নিয়ম অনুযায়ী, দুই দল নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হলে নকআউট পর্বে দেখা হতে পারে। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ যুক্তরাষ্ট্র ১–০ গোলে হারিয়েছিল ইরানকে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন ম্যাচ হলে তা কেবল ক্রীড়া ইভেন্ট থাকবে না—তা হয়ে উঠবে বিশ্বরাজনীতির প্রতীকী সংঘর্ষ।
ইরান না খেললে ফিফা কী করবে?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ফিফার নিয়মকানুনে এমন পরিস্থিতির বিস্তারিত নির্দেশনা নেই, তবে কিছু বিকল্প রয়েছে।
১. গ্রুপ তিন দলে নামিয়ে আনা
গ্রুপ জি থেকে ইরান বাদ দিলে তিন দল নিয়ে সূচি বদলে খেলা যেতে পারে। তবে এতে সম্প্রচার চুক্তি, ম্যাচসংখ্যা ও টুর্নামেন্ট কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে—যা বাস্তবসম্মত নয়।
২. বিকল্প দল অন্তর্ভুক্ত
সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হলো অন্য একটি দলকে সুযোগ দেওয়া।
এশিয়ার বাছাইপর্ব থেকে ইরান সরাসরি জায়গা পেয়েছে। প্লে-অফের লড়াইয়ে ইরাক এগিয়ে আছে। যদি ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ জিতে যায়, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরবর্তী সম্ভাব্য দল হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ফিফার হাতে।
নারী দল খেলছে, পুরুষ দল অনিশ্চিত
এদিকে ইরানের নারী ফুটবল দল বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় ইরান সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়নি। কিন্তু পুরুষদের বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার ইভেন্ট বিশেষত আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় রাজনৈতিক মাত্রা আরও বেশি।
বিশ্বকাপের সময়সূচি
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন, মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায়। উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সময় খুব বেশি নেই আর তাই সিদ্ধান্তও নিতে হবে দ্রুত।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না। যুদ্ধের গতি, কূটনৈতিক সমাধান, ফিফার অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত সবকিছু মিলিয়েই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।
একটা বিষয় পরিষ্কার—২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে ভারী হয়ে উঠেছে। আর ইরানের অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অনিশ্চয়তার নতুন ছায়া পড়েছে।
পরিস্থিতি বদলাচ্ছে দ্রুত। আর বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই হয়তো নির্ধারিত হয়ে যাবে—ইরান মাঠে থাকবে, নাকি ইতিহাসে লেখা হবে আরেকটি বিতর্কের অধ্যায়।