ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর রাজস্ব ও টুর্নামেন্টের কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
দীর্ঘ নাটকীয়তার পর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও, গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আইসিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘আইসিসি পাকিস্তান সরকারের সেই বিবৃতির বিষয়টি নোট করেছে, যেখানে জাতীয় দলকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ আংশিকভাবে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।’
তবে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পায়নি আইসিসি। সংস্থাটি আরও জানায়, ‘আংশিকভাবে অংশগ্রহণের অবস্থান একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যোগ্যতা অর্জনকারী সব দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমানভাবে প্রতিযোগিতা করবে, এটাই প্রত্যাশিত।’
আইসিসির মতে, তাদের টুর্নামেন্টগুলো গড়ে উঠেছে খেলার সততা, প্রতিযোগিতামূলক মান, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আংশিক অংশগ্রহণ এসব মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং টুর্নামেন্টের চেতনা ও পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় নীতিগত বিষয়ে সরকারগুলোর ভূমিকার প্রতি আইসিসি শ্রদ্ধাশীল। তবে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট এবং বিশেষ করে পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেট সমর্থকের কল্যাণের পক্ষে নয়।’
আইসিসি আশা প্রকাশ করে জানায়, পিসিবি যেন নিজ দেশের ক্রিকেটের ওপর এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে, কারণ এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপরও, যার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পাকিস্তান নিজেই।
সবশেষে আইসিসি জানায়, ‘আইসিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সফল আয়োজন, যা পিসিবিসহ আইসিসির সব সদস্য দেশের দায়িত্ব। আইসিসি আশা করে, পিসিবি এমন একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে দেখবে, যা সব অংশীদারের স্বার্থ রক্ষা করবে।’