সিলেট-৫ আসনে মুফতি আবুল হাসানকে নিয়ে বাজিই ধরলো খেলাফত মজলিস। নতুন প্রার্থী। কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। পরিচিত ইসলামী ওয়াজিন। অনেক নাটকীয়তার পর জামায়াতের কাছ থেকে এ আসনটি শেষ মুহূর্তে পেয়েছেন খেলাফত নেতারা।
সিলেটের খেলাফত নেতারা মনে করছেন; এ আসনে তারা জয় পাবেন। মুফতি আবুল হাসান এ আসনের জকিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র প্রার্থী। এ আসনে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটব্যাংক রয়েছে খেলাফত মজলিসের। জকিগঞ্জের ভোটে এগিয়ে আছেন তিনি। বাধা কেবল কানাইঘাট। সেখানে স্থানীয় প্রার্থী জমিয়ত সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। স্বতন্ত্র মামুনেরও শক্ত অবস্থান। ফলে কানাইঘাটের ভোট টানতে খেলাফত নেতারা নজর দিচ্ছেন বেশি। কানাইঘাটে দাপট আছে জামায়াতে ইসলামীর। ভোটও আছে। জামায়াতের নেতারা সঙ্গে রয়েছেন। দলটির মাঠ পর্যায়ের ভোট নিয়ে সংশয় আছে। সেটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোটেই থাকবে জামায়াতের ভোট- এমনটি জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. দিলওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এ আসনে খেলাফত মজলিসের নিজস্ব ভোটব্যাংক, প্রার্থীর ইমেজ ও পরিচিতি, অঞ্চল ভেদে ভোটের অবস্থান সবখানেই এগিয়ে রয়েছে খেলাফত মজলিস। এ ছাড়া সাধারণ মানুষও এ আসনে দেয়াল ঘড়ির পক্ষে এসে অবস্থান নিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রার্থীর পক্ষে জোয়ার উঠেছে। সুতরাং খেলাফত মজলিস এ আসনে জয় ছাড়া বিকল্প ভাবছে না বলে জানান তিনি। সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে দু’টি আসন ১১ দলের কাছ থেকে পেয়েছে খেলাফত মজলিস। সিলেট-৫ ছাড়াও সিলেট-২ আসনটিও তাদের। এ আসনে প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. মুনতাসির আলী। এক সময়ে তুখোড় ছাত্রনেতা। জাতীয় রাজনীতিতেও দাপট রয়েছে তার।
২০১৮ সালে সিলেট-২ আসন থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন যায় গণফোরামের ঘরে। নীরব থাকেন মুনতাসির আলী। এবার এ আসনে মুনতাসিরকে আগেই ছাড় দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ভোটে মাঠে সক্রিয় মুনতাসির আলী। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ শক্তিশালী প্রার্থী।
এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা। ইতিমধ্যে এ আসনে বিএনপি নেতারা মান-অভিমান ভুলে এক হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি বিরোধী ভোট ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে মুনতাসিরের পক্ষে। এতে করে জয়ের আশা করছেন দলটির জেলার নেতারা। মুনতাসির সজ্জন রাজনীতিক। পরিচ্ছন্নও। ইলিয়াসের জমানা থেকে ছাত্ররাজনীতি করছেন। এতে করে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বন্যা ও করোনাকালে তিনি ছিলেন মানুষের কাছাকাছি। নিজ এবং দলের উদ্যোগে মানুষের কাছে খাদ্য ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।
জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ জানিয়েছেন, মুনতাসির আলীর পক্ষে ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে জোয়ার উঠেছে। তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে জনতার স্রোত নামছে। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। স্বচ্ছ ও সেবামূলক রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে এলাকার বিকল্প কেউ নেই বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে উন্নয়নেও এলাকার মানুষের সুখে, দুঃখে রয়েছেন প্রার্থী। এদিকে দলের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হকের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় এবার সিলেট-৩ আসনে ১০ দলের প্রার্থী পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলের প্রার্থী নবাগত মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু।
এ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ ছিলেন ব্যাপক আলোচনায়। আসনটি ছাড়তে চায়নি জামায়াত। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রেখেছিল। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে এসে হঠাৎ করে ঢাকা থেকে উড়ে আসে প্রার্থী পাল্টানোর মেসেজ। কপাল ভাঙে মাওলানা লোকমানের। দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। ছেড়ে দিয়েছেন আসন।
এখন এ আসনে ১১ দলের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু। তিনি বালাগঞ্জের বাসিন্দা। গহরপুর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা নুর উদ্দিন গহরপুরী (রহ.) সন্তান। মাদ্রাসার মুহতামিম। ভোটের মাঠেই ছিলেন না তিনি। বরং প্রার্থীরা গিয়ে তার কাছ থেকে দোয়া নিতে আসতেন। হঠাৎ করেই মাওলানা মামুনুল হক ম্যাজিক। প্রার্থী মাওলানা রাজু। প্রতিপক্ষ বিএনপি’র প্রার্থী এমএম মালিক। প্রার্থী নতুন হলেও মাওলানা রাজুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন দলের নেতারা। ইতিমধ্যে তার পক্ষে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন খেলাফত নেতারা। জামায়াত নেতারাও সক্রিয়। তবে তৃণমূলে এখনো নীরব। খেলাফত নেতারা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে সরব হচ্ছে জামায়াত। এতে করে বাড়ছে ভোটারের সমর্থনও। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট নগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম জানিয়েছেন, সিলেটের ৫টি আসনে সমর্থন দিয়ে তারা একটি আসন পেয়েছেন। এজন্য তাদের সঙ্গে জোটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১১ দলের প্রার্থী মাওলানা রাজু ভোটের মাঠে ভালো প্রভাব ফেলছেন। জয়ের প্রত্যাশা করছেন তারা।