Image description

বিশ্বকাপের আর এক মাসের মতো সময় বাকি। ঠিক এই সময়ে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারতে গিয়ে খেলাটা চ্যালেঞ্জের হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের জন্য। সেখানে গিয়ে খেললে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য শঙ্কা তৈরি হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক।

ঘটনার শুরু মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে। আসছে আইপিএলে তিনি খেলতে পারবেন না। তাকে দল থেকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আদেশ দিয়েছে বিসিসিআই।

কলকাতায় আইপিএলে বাংলাদেশি খেলোয়াড় খেলানো নিয়ে প্রথম আপত্তি তোলেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচি। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার কোনো আইপিএল দলে খেলে, আর কলকাতার মাটিতে ম্যাচ খেলতে চায়, সেটা আমরা হতে দেব না। আমরা শাহরুখ খানকেও কলকাতায় ঢুকতে দেব না। মোস্তাফিজুর রহমানের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা এখানে খেলে টাকা আয় করবে, ওদিকে অন্য বাংলাদেশিরা অস্ত্র সরবরাহ করবে, আর আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা এই অস্ত্রে মারা যাবে, দুটো একসাথে চলতে পারে না।’

এরপর বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। একাধিক উগ্রবাদী গোষ্ঠী হুমকি দিচ্ছিল কলকাতা ও আইপিএল কর্তৃপক্ষকে। এমনকি কেকেআরের সহ-মালিক শাহরুখ খানের দিকেও আঙুল তোলা হয়। তারপরই মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ যদিও সরাসরি এই রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করেননি। তবে শেষ কিছু দিনের ঘটনাপ্রবাহ আর শেষের এই নির্দেশ বলছে, রাজনৈতিক চাপের সামনেই নতি স্বীকার করেছে ভারতীয় বোর্ড।

মোস্তাফিজুর রহমান বৈরিতার মুখে পড়েছেন, যার ফলে আইপিএল খেলতে পারবেন না। সেই একই দেশে তার কিছু আগে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশের। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু এই বিশ্বকাপ। যে কলকাতা থেকে মোস্তাফিজ বিরোধী ডাক উঠেছিল উগ্রবাদী গোষ্ঠীর, সেই কলকাতার মাটিতে গ্রুপ পর্বে ৩টি ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে।

এমন পরিস্থিতিতে গিয়ে খেললে গোটা বাংলাদেশ দলেরই শঙ্কা থেকে যায়, এমনটাই অভিমত বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি আজ একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘যেহেতু সামনে বিশ্বকাপ আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে খেললে একটা শঙ্কা থেকে যায়। সে শঙ্কার জায়গাটা আমাদের ক্রিকেট বোর্ড ও আমাদের সরকারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, আমি তাদের কাছে ছেড়ে দিলাম, যে আপনারা দ্রুত সময়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করুন।’

এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আদায় করে নিয়েছে। মোস্তাফিজের আইপিএল খেলায় হস্তক্ষেপের পর বিসিবিও এখন সে পথে হাঁটবে কি না, সেটাই প্রশ্ন।

শীর্ষনিউজ