বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে চলা স্নায়ুযুদ্ধ অবশেষে স্বস্তিতে রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার রাতে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ ভুলবোঝাবুঝির অবসান হয়। মঙ্গলবারের মধ্যে আসন সমঝোতাসহ ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনি কার্যক্রমের সামগ্রিক বিষয়গুলো জানানো হবে বলে জোটের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছে। জানা যায়, গত রবিবার ৮-দলীয় জোটের শীর্ষনেতারা আসন সমঝোতা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ওই দিনই বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আট দলের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন সমঝোতার বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেন।
একই সঙ্গে এলডিপি ও এনসিপিকে জোটে যুক্ত করেন। এরপর দিন জোটে যুক্ত হয় এবি পার্টি। ওই সময় থেকে জোটে থাকা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে নতুন করে তিনটি দল এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির প্রবেশের পর আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্যে আসে। আসন বণ্টনসহ নানান ইস্যুতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন। এরই মধ্যে সোমবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৭২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি জামায়াত ২৭৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। একই সঙ্গে আট দলের শরিকে থাকা অন্য দলগুলো নিজেদের মতো করে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়। এরপরই শুরু হয় জোটের মধ্যে টানাপোড়েন।
এরপর দিন (মঙ্গলবার) সমঝোতা ও নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে ইসলামী আন্দোলন। পরে সংবাদ সম্মেলন না করলেও দলটির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ রয়ে যায়। আসন সমঝোতা না হলে একক নির্বাচন করারও ইঙ্গিত দেন দলটির শীর্ষ নেতারা। পরে গত শুক্রবার রাতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে গত কয়েক দিনে চলা অসন্তোষ, জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে বলে জানান জোটের শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে। আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থীর অবস্থান ভালো অর্থাৎ জয়ী হয়ে আসতে পারবে তার পক্ষেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে বলেও তারা জানান।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে থাকা দলগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন, অসন্তোষ, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন সমঝোতার একটা পর্যায়ে চলে গেছে। আশা করি দ্রুতই আসন বিন্যাস পরিষ্কার করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা আগেই প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু নতুন দলগুলো সমঝোতায় আসায় নতুন করে আবার বিন্যাস করতে হয়েছে। আশা করি দু-তিন দিনের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়ে যাবে।
যে কারণে আটকে আছে সমঝোতা : বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২৪৮ আসনে আট দলের মধ্যে সমঝোতা হয়। এর মধ্যে ১৭১টি জামায়াত নিজে লড়তে চায়। বাকি ৭৭টি শরিকদের ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। আর বাকি ৫২ আসনে জরিপ করে প্রার্থী ঠিক করার প্রস্তাব করা হয়। জরিপ অনুযায়ী ৫২টি আসনের মধ্যে ২২টিতে জামায়াত প্রার্থী দিতে চায়। সেটা মানতে রাজি হয়নি দলগুলো। তখন চরমোনাইর পীরের ভাগে ৫০টি আসন রাখা হয়েছিল। কিন্তু এনসিপি, এলডিপি, এবি যোগ দেওয়ায় তাদের ১৬ আসন ছাড়তে বলা হয়েছে। জামায়াতও নিজের ভাগ থেকে ১৬টি ছাড়বে। বাকি ২০টি অন্য শরিক দলগুলো কেটে নেওয়া হবে। কিন্তু এখানেই কেউ রাজি হয়নি বলে জানা যায়।