এবার ব্যালন ডি’অর কে জিতবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন আর ভোটারদের কাছেও নেই। ২০২৬ সালের পুরস্কারের ভোট হয়ে গেছে, ফল জানা যাবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। তবে তার আগেই সাবেক তারকা ও ফুটবলের পরিচিত মুখদের অনেকেই নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড়ের নাম বলে দিয়েছেন। তাতে লড়াইটা যেন আরও জমেছে—কেউ কিলিয়ান এমবাপ্পের পক্ষে, কেউ লামিনে ইয়ামালের, কেউ আবার হ্যারি কেইন কিংবা লিওনেল মেসির।
এবারের ৩০ জনের তালিকায় এমবাপ্পে, ইয়ামাল, কেইন ও মেসির সঙ্গে আছেন গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, রদ্রি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ অনেকে।
এমবাপ্পের পক্ষে অঁরি–কার্লোস
এমবাপ্পের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো সমর্থন এসেছে থিয়েরি অঁরির কাছ থেকে। সাবেক ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেছেন, তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ এমবাপ্পে। কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা ও বিশ্বকাপে ফরাসি ফরোয়ার্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াকে। অঁরির দ্বিতীয় পছন্দ ফ্রান্সেরই আরেক খেলোয়াড় মাইকেল ওলিসে।
লা লিগার সেরা খেলোয়াড় হওয়া আর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা ইয়ামালকে খুব একটা এগিয়ে রাখতে পারছেন না অঁরি। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে চোটের কারণে ইয়ামালের সেরা ছন্দে থাকতে না পারাটা তার বিপক্ষে যায়।
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসও সরাসরি এমবাপ্পের নাম বলেছেন। পর্তুগালের এক অনুষ্ঠানে তাঁকে পছন্দের খেলোয়াড়ের নাম জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর ছিল, ‘কিলিয়ান এমবাপ্পে’।
ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার ও বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার স্যামুয়েল উমতিতিও ভোট দিতে হলে এমবাপ্পেকেই বেছে নেবেন বলেছেন। তাঁর যুক্তি, এমবাপ্পে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছেন এবং প্রচুর গোল করেছেন।
আর ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েনও মনে করেন, এমবাপ্পের জয়ের বড় সুযোগ আছে। এমবাপ্পের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ও বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সকে তাঁর সম্ভাবনার বড় কারণ হিসেবে দেখেছেন সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে।
ইয়ামালের পক্ষে ইব্রা–ইতোরা
এমবাপ্পের বিপরীতে ইয়ামালের পক্ষে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে ইএসপিএনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের হাতে ব্যালন ডি’অর দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। এর আগে কেভিন হার্টের ‘কোল্ড এজ বলস’ অনুষ্ঠানেও বর্তমান প্রজন্মের পছন্দের খেলোয়াড় হিসেবে ইয়ামালের নাম বলেছিলেন তিনি।
গত বছর ব্যালন ডি’অর ভোটে দ্বিতীয় হওয়া ইয়ামালকে এবার সবচেয়ে বড় দাবিদার মনে করছেন ক্যামেরুন তারকা স্যামুয়েল ইতোও। বার্সেলোনার সাবেক এই ফুটবলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালকে ‘আমাদের হৃদয়ের ব্যালন ডি’অর’ বলে শুভকামনা জানিয়েছেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
কেইনের পক্ষে ইংল্যান্ডের সাবেকরা
হ্যারি কেইনের পক্ষেও সাবেক তারকাদের সমর্থন কম নয়। রিও ফার্ডিন্যান্ড তো প্রায় প্রশ্নই তুলে দিয়েছেন—কেইন ছাড়া আর কে? ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতার পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি কেইনের ৭৩ গোল এবং বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, ব্যালন ডি’অর কেইনেরই পাওয়া উচিত।
কেইনের পক্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানও। ১৯৯৫ সালের ব্যালন ডি’অরে রানার্সআপ হওয়া সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছেন, ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে কেইনই তাঁর পছন্দ।
এ তালিকায় আরও একটি বড় নাম লোথার ম্যাথাউস। ১৯৯০ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার মতে কেইন ফেবারিট। তিনি তিনটি কারণও দেখিয়েছেন—বায়ার্নের জার্মান ডাবল জয়ে কেইনের গোলের রেকর্ড, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠা এবং ফুটবলে রোল মডেল হিসেবে তাঁর ভূমিকা। সব সাফল্য যোগ করলে কেইন তাঁর চোখে এগিয়ে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক উগো লরিসও কেইনের পক্ষে। টটেনহামের কেইনের সঙ্গে খেলেছিলেন তিনি। রিও ফার্ডিন্যান্ডের অনুষ্ঠানে লরিসও বলেছেন, কেইন ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন।
কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৩ গোল করেছেন, যা ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের এক মৌসুমে মেসির ৮২ গোলের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
মেসির পক্ষে বেকহাম–চেকরা
বয়স ৩৯ হলেও লিওনেল মেসিকে আলোচনার বাইরে রাখছেন না কেউ কেউ। বরং তাঁর পক্ষে সরব হয়েছেন ডেভিড বেকহাম। ইন্টার মায়ামির সহমালিক ও সাবেক ইংলিশ তারকা বলেছেন, বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সের পর তাঁর নবম ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত।

মেসির হাত ধরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে আর্জেন্টিনা। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করা আটবারের ব্যালন ডি’রজয়ীকে এবারও দাবিদার মনে করেছন পিওতর চেকও। চেক প্রজাতন্ত্রের এই গোলকিপার বলেছেন, মেসির ভালো সুযোগ আছে।
তবে সাবেক তারকা ফুটবলারদের যিনি যাঁর পক্ষেই থাকুন না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে ১০০ জন সাংবাদিকের ভোটই ঠিক করে দেবে কে আসল বিজয়ী। সেই ফল প্রকাশ পাবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। তার আগে সাবেক তারকাদের এই পছন্দের তালিকা শুধু একটি বিষয়ই স্পষ্ট করছে—এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা কতটা জমজমাট।