Image description

‘এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে, বিএনপির বিপক্ষে একটি উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব, একদম সোজা কথা’- সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এমনই মন্তব্য করেছেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাই পৌর শহরের আইঙ্গন এলাকায় সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন চাল কল মিল ‘কিষান কোল্ড স্টোরেজে’ সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে সাংবাদিকদের ডেকে নেন তিনি।

তার পাশে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, সহ-সভাপতি রাকিবুর রহমান খান ফরহাদ, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান স্বপনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

এর আগে শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার বালিথা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। এরমধ্যে একটি পক্ষের ব্যক্তিরা এমপি তমিজ উদ্দিনের অনুসারী। অপর পক্ষের ব্যক্তিরা ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান রোমার অনুসারী। হামলার ঘটনায় রোমা এমপিকে সরাসরি তার সঙ্গে বিবাদের আহ্বান জানান। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন রোববার নিজের চালকল কারখানায় সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে ডেকে নেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি রমিজুর রহমান রোমাকে আওয়ামী লীগ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া একপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা এই গরমের মধ্যে এসেছেন, আপনাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুধু একটা কথা বলতে চাই আপনাদের ব্যাপারে, আমি কারো শত্রু না। কারো রাগের বিভাজন হই এমন কোনো কাজ আমি করি না।

একপর্যায়ে রমিজুর রহমান রোমার নাম উল্লেখ না করেই ইঙ্গিত করে তমিজ উদ্দিন বলেন, যে মানুষটাকে নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না, উচ্চারণও করতে চাই না, আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, ৪ তারিখে আওয়ামী লীগের পক্ষে এই ধামরাই সদরে মিছিল করে নাই? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে আন্দোলন করে নাই? আপনারা কী করে বলেন যে সেই মানুষটা বিএনপির একজন? এমপির সঙ্গে তাকে তুলনা করতেছেন আপনারা।

এসময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা, ‘দালাল’, ‘দালাল’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

তমিজ উদ্দিন আরও বলেন, যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা কালকে এই নিউজটা করেছেন, নিশ্চয়ই চিনেন। আমি তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আজকে আমার সঙ্গে দয়া করে বসবেন। যারা আছেন, তারা বসবেন এখনই। যারা নাই, তাদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে কথা বলব। আপনাদের সম্মান রক্ষা করার জন্য।

এসময় তিনি বলেন, এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে বিএনপির বিপক্ষে একটি উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব। একদম সোজা কথা। স্বৈরাচারের দোসর হইয়া, কে কারে শেল্টার দিল আর ২ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা খাইয়া যা খুশি তাই করবেন, এটা ভুলে যেতে হবে।

তিনি রমিজুর রহমান রোমার নাম উল্লেখ না করেই ইঙ্গিত করে বলেন, আপনার ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে। আপনি কি একটা ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারবেন? যেকোনো ব্যবসা করতে গেলে, পানির দোকানদারি করতে গেলেও তো ট্রেড লাইসেন্স লাগে। দয়া করে কেন আপনারা এই প্রশ্নটি তুলেন নাই যে, আপনার একটা ট্রেড লাইসেন্স নাই, অথচ আপনার ঢাকায় বাড়ি, ধামরাইয়ে কয়েকটা বাড়ি, বিশাল বিশাল অট্টালিকা। আপনি চ্যালেঞ্জ করেন যে, তারেক রহমান যে গাড়ি চালায়, আমি সেই গাড়ি কিনেছি। আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রশ্ন করতেছি। এই কথা আপনারা শোনেন না মানুষের কাছে? এই যে অগণিত টাকা-পয়সা, আপনারা একবারও কোনো প্রশ্ন করেন, এর উৎস কী?

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানতেন, বেনজির সাহেব আওয়ামী লীগের এমপি। তার সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি কে ছিল? আপনারা বলেন। আপনারা দয়া করে উত্তর দিবেন, আমি ভুল বললে। ছিল না?

এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তমিজ উদ্দিন আরও বলেন, দয়া করে আপনারা সম্মানের জায়গায় থাকেন। আপনারা আমাকে ভালো করে চেনেন। অনেকেই বলেন যে, তারেক সাহেব আগের সেই তারেক সাহেব নাই। আমরা ছেড়ে দিয়েছিলাম এই কারণে। ৫ তারিখের পর আপনারা কেউ বলেন নাই, যখন জামায়াত, এনসিপিসহ আওয়ামী লীগের দোসররা বদনাম তোলে যে বিএনপির লোকরা চাঁদাবাজি করে খাচ্ছে। কিন্তু আপনারা অনেকেই, আমি সবাইকে বলব না, অনেকেই ওই দুই-চার-পাঁচ হাজার টাকার লোভে গিয়ে চাঁদাবাজদের প্রশংসা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার কথা, স্বচ্ছ সুন্দর সংবাদ আপনারা পরিবেশন করেন। আমরা আপনাদের স্যালুট দিব। সমস্যা থাকলে বলবেন। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা করবো। কারণ আপনাদের ক্ষমতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সকলেই আপনাদেরকে সম্মান করি। সেই কারণে একটা খবর প্রচার করার আগে ভালো করে দেখে, বুঝে, দয়া করে করবেন। তাহলে আমরা সরকারের যে পরিকল্পনা, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে দিব, আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সেই সঙ্গে আমরা চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই ধামরাইটাকে একটা মডেল ধামরাই করতে। যেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকবে না, কিছুই থাকবে না।