Image description

তালেবান সরকারের নারী নীতির কারণে আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট বর্জন করেছে ইংল্যান্ড। এমন পরিস্থিতিতে আফগানদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করায় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) রোষানলে পড়েছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের জেরে ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আইরিশদের দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

নারী অধিকার খর্ব করার বিষয়টি তুলে ধরে আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট না খেলার নীতি নিয়েছে ইসিবি। একই কারণে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না। ইসিবি প্রধান রিচার্ড থম্পসন তালেবানের এই নীতিকে 'লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ' বলে অভিহিত করেছেন। তবে আইসিসি টুর্নামেন্টে আফগানদের বিপক্ষে খেলেছে দলগুলো।

এর বিপরীতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করছে আইরিশরা। আগামীকাল শুক্রবার থেকে মাঠে গড়াবে এই সিরিজ। এমনকী পারস্পরিক চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী বছরের মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

এর আগে ২০১৯ ও ২০২৩ অ্যাশেজের আগে লর্ডসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল ইংল্যান্ড। তবে আগামী বছর আইরিশদের বাদ দিয়ে ইসিবি প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশকে। এছাড়া ব্যস্ত সূচির অজুহাতে আগামী বছর প্রস্তাবিত ইউরো নেশনস কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড। এ কারণে দুই বোর্ডের সম্পর্কে আগে থেকেই কিছুটা শীতলতা বিরাজ করছিল।

সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের এই পদক্ষেপে দুই দেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটীয় সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে নারী ক্রীড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে দেশটির নারী ক্রিকেটাররা দেশত্যাগ করেন, যাদের বেশিরভাগই বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। একমাত্র আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের নারী দল না থাকলেও আইসিসি তাদের নিষিদ্ধ করেনি। তবে আয়ারল্যান্ড ছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে এবং এশিয়ার চার পূর্ণ সদস্য দেশ নিয়মিতই আফগানদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছে।