Image description
কাউন্সিল নরমালি শীতের সময় হয়। তবে শিগগিরই করার জন্য আলোচনা চলছে।’  

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় আছে। তাঁদের মধ্য থেকে যে কেউ রাষ্ট্রপতি হলে স্থায়ী কমিটিতে আরেকটি পদ শূন্য হবে। আবার মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ শূন্য হবে।

স্থায়ী কমিটিতে সাতটি শূন্য পদ রয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব একজনকে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে আসতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব থেকে যে কেউ। আলোচনায় আছেন খায়রুল কবির খোকন, হাবীব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটিতে পাঁচজন নতুন যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া এবার দল পুনর্গঠনে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে বিএনপির ১০ সাংগঠনিক বিভাগে ‘যুগ্ম মহাসচিব’ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি। বর্তমানের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন পদ তৈরি হলে যুগ্ম মহাসচিবরা বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থাকবেন সাংগঠনিক সম্পাদকরাও।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা কালের কণ্ঠকে জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দক্ষ হাতে দলের সব ইস্যুর সঠিক সমাধান করবেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করেন তিনি।

সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও সাংগঠনিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনায় ‘যুগ্ম মহাসচিব’

জানা গেছে, এবার সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বড় চমক আসছে। প্রতি বিভাগে একজন যুগ্ম মহাসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সাংগঠনিক গতিশীলতা আনতে নতুনত্ব নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক ১০ বিভাগে যুগ্ম মহাসচিব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদকও থাকবে। দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই পদক্ষেপ দিতে পারেন অথবা আগামী কাউন্সিলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

আলোচনায় যাঁরা : ঢাকা বিভাগে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিনুল হক, ময়মনসিংহ বিভাগে মো. শরিফুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগে মীর হেলাল, খুলনা বিভাগে রকিবুল ইসলাম বকুল, রাজশাহী বিভাগে মীর শাহে আলম, রংপুর বিভাগে ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফরিদপুর বিভাগে শামা ওবায়েদ, সিলেট বিভাগে জি কে গউস, কুমিল্লা বিভাগে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া অথবা মনিরুল হক সাক্কু এবং বরিশাল বিভাগে মোর্শেদ হাসান খান, আকন্দ কুদ্দুসুর রহমান।

বর্তমানে দলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবসহ যুগ্ম মহাসচিবের সংখ্যা সাতজন। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হুমায়ুন কবির। সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে তিন যুগ্ম মহাসচিব যুক্ত করার বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা আছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। 

স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণেও আসতে পারে চমক

দলের স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণে আসতে পারে চমক। প্রবীণদের পাশাপাশি মধ্যম সারির নেতৃত্ব থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা পেতে পারেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদটি শূন্য আছে। তবে এই পদটি থাকবে কি থাকবে না—এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।  

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের স্থায়ী কমিটিতে ১৯টি পদ রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও বর্তমানের স্থায়ী কমিটিতে আছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (পদাধিকারবলে), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রয়াত হয়েছেন। স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ দলীয় পদ ছাড়েন। ফলে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থায়ী কমিটিতে বর্তমানে আছেন ১৩ জন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্বের আওতায় শূন্য পদ পূরণের বিধান রয়েছে। গঠনতন্ত্রের ধারা-৮-এর ‘খ’ উপ-ধারার (৬) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করতে পারবেন। অতীতে এমন নজির রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে পাঁচজন যুক্ত হতে পারেন। এর মধ্যে আলোচনায় আছেন শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, ইসমাইল জবিউল্লাহ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ। এর বাইরে থেকেও দলের যে কেউ আসতে পারেন। 

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি!

দলের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি করা হবে—এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সর্বশেষ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচন, কবে নির্বাচন হবে সব দায়িত্ব আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।’

ওই বৈঠকের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী কে হবেন, সেই দায়িত্ব আমরা (স্থায়ী কমিটি) দলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ন্যস্ত করেছি। তিনি সেটা (প্রার্থী চূড়ান্ত) করবেন।’

সরকারের মন্ত্রিপরিষদের এক প্রভাবশালী সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি দলের বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে না। এটাই ফাইনাল। এ ক্ষেত্রে দলের মহাসচিবই হচ্ছেন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।’

পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পদ নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ

বিএনপির গঠনতন্ত্রে সরাসরি ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ বলে সুনির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী পদ না থাকলেও, দলের বিশেষ পরিস্থিতিতে বা মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে এই দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে। ২০১১ সালের মার্চ মাসে মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে দলের মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। এই শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দেওয়া হবে, না পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

মহাসচিব পদে কারা আসতে পারেন—এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। যাঁদের নাম আলোচনায়, তাঁরা হলেন সালাহউদ্দিন আহমদ, রুহুল কবীর রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ। 

দল ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, রেওয়াজ অনুযায়ী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হবে। আগামী কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত করা হবে।

আরেকটি সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটি থেকে এবার মহাসচিব করা হবে না। যিনি মহাসচিব হবেন, তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হবেন না। যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তিনি হয়তো দপ্তরবিহীন মন্ত্রী বা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারেন।

ছাত্রদলে সাবেক নেতাদের পদায়ন নিয়ে আলোচনা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের এবার পদায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাঁরা সংসদ সদস্য কিংবা সরকারের কোনো দপ্তরে দায়িত্বে নেই, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্রামুল হাসান মিন্টু, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ আরো অনেকে।