Image description

ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানের এক মহাকাব্যিক ও রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়ে ম্যাচে ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন এই মহাতারকা। আর এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের তিনটি অল-টাইম ব্যক্তিগত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন, যা তাঁকে বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

​ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে করা গোলটি ছিল চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির ৮ম এবং তাঁর ক্যারিয়ারের ২১তম বিশ্বকাপ গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি পুরুষ ও নারী উভয় ফুটবল মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের এককভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরুষ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডটি ভেঙেছিলেন মেসি। এবার মিশরের বিপক্ষে গোল করে তিনি নারী বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্তার (১৭ গোল) রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। ক্লোসে (১৬), রোনালদো (১৫) এবং মার্তাকে (১৭) পেছনে ফেলে মেসি এখন গোলদাতার তালিকার চূড়ায় সম্পূর্ণ একা দাঁড়িয়ে আছেন।

​এই ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের (গোল করানো) মালিক হয়েছেন মেসি। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর করা আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যাকে ৯-এ নিয়ে গেছেন মেসি, যা ছাড়িয়ে গেছে আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে (৮টি অ্যাসিস্ট)। ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরে এসে এই অনন্য প্লে-মেকিং কীর্তি নিজের করে নিলেন।

​পাশাপাশি, মিশরের বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে মেসি টানা ৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যার শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে। এর মাধ্যমে তিনি জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং জাইরজিনহোর (১৯৭০) টানা ৬ ম্যাচে গোল করার পূর্ববর্তী রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছেন। চলতি ২০২৬ আসরেই মেসি প্রথমে টানা ৭ এবং পরে ৮ ম্যাচের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন, আর এবার টানা ৯ ম্যাচে গোল করে নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

​মিশরের বিপক্ষের এই ম্যাচটি ছিল মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এক প্রতিচ্ছবি। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করার পরও দমে না গিয়ে তিনি পুরো দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন। প্রথমে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে ব্যবধান কমান, এরপর নিজে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোলটিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৩-২ ব্যবধানের এই অবিশ্বাস্য জয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে ৩৯ বছর বয়সেও মেসির রেকর্ড ভাঙার এই মহাকাব্যিক যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।