Image description
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারালেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না তিনি। তবে তাঁকে পূর্ণ টুর্নামেন্ট ফি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।

আরতানকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকায় রেখেছিল ফিফা। তিনি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা প্রথম সোমালি রেফারি হতে পারতেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ফলে তিনি রেফারিদের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি, ম্যাচ পরিচালনার সুযোগও হারিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও যাচাই-প্রক্রিয়াসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগেই তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে আরতান বা ফিফার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসেনি। ফিফা জানিয়েছে, অভিবাসন ও প্রবেশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্বাগতিক দেশের কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও আরতানের পাশে দাঁড়িয়েছে ফিফা। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও তাঁকে পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হওয়া, প্রস্তুতি নেওয়া এবং শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক কারণে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত।

৩৪ বছর বয়সী আরতান ২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আফ্রিকান ফুটবলে তাঁর অবস্থান দ্রুত উঁচুতে উঠেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পেলে সেটি হতো তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। একই সঙ্গে সোমালিয়ার ফুটবলের জন্যও তা হতো ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

বিশ্বকাপে থাকতে না পারলেও দেশে ফিরে নায়কোচিত অভ্যর্থনা পেয়েছেন আরতান। মোগাদিশুতে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনেকের কাছে বিষয়টি শুধু একজন রেফারির ব্যক্তিগত হতাশা নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে সোমালিয়ার প্রতিনিধিত্ব হারানোর বেদনা।

তবে আরতানের জন্য আরেকটি বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তাঁকে আগস্টে প্যারিস সেন্ট জার্মেই ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিশ্বকাপের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর এই নিয়োগকে আরতানের প্রতি বড় স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আরতানের ঘটনা ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হওয়া এই বিশ্বকাপে ভিসা, সীমান্তনীতি ও প্রবেশাধিকার নিয়ে আগেই আলোচনা ছিল। আরতানের ক্ষেত্রে সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

ফিফার জন্যও বিষয়টি অস্বস্তিকর। কারণ বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত একজন ম্যাচ অফিসিয়াল শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক দেশে ঢুকতে পারেননি। তবে পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তত আর্থিক দিক থেকে আরতানকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

সব মিলিয়ে আরতানের বিশ্বকাপ গল্পটি অসমাপ্তই রয়ে গেল। মাঠে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পেলেন না তিনি, ইতিহাস গড়ার অপেক্ষাও থেমে গেল শেষ মুহূর্তে। তবে পূর্ণ ফি দেওয়ার ফিফার সিদ্ধান্ত এবং উয়েফা সুপার কাপের দায়িত্ব, দুটি বিষয়ই দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অবস্থান এখনো অটুট।

বিশ্বকাপে আরতান নেই। কিন্তু তাঁর নাম ঘিরে আলোচনা থামছে না।