রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা-জটিলতার শঙ্কার মধ্যে ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, ফিফার অনুরোধের পর তার সরকার ইরান দলকে মেক্সিকোতে থাকার অনুমতি দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। তবুও দলটির বেস ক্যাম্প হচ্ছে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায়। সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাউম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের দেশে রাখতে আগ্রহী ছিল না। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ফিফা মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের মেক্সিকোতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার মতো কোনো কারণ আমাদের নেই।’
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ শনিবার জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে। পাশাপাশি ইরান এয়ারের ফ্লাইটে সরাসরি মেক্সিকোতে যাতায়াতের সুযোগও থাকবে।
এর আগে ফিফার অনুমোদন নিয়ে ইরানের ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে তিজুয়ানায় সরানোর কথা জানায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এপি ও রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিজুয়ানা বেছে নেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ভিসা ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত, যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ইরান আছে ‘জি’ গ্রুপে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। ২১ জুন একই শহরে প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও ফিফা এখন পর্যন্ত ইরানের ম্যাচসূচি বদলায়নি। ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই থাকছে, বদলাচ্ছে শুধু দলের থাকার ঘাঁটি।
এ কারণে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযানে এবার ফুটবলের পাশাপাশি কূটনীতির ছায়াও থাকছে বড় হয়ে। মাঠে তাদের লড়াই নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে; মাঠের বাইরে বড় চ্যালেঞ্জ ভ্রমণ, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সামলানো।