ফ্রান্সের অপেশাদার ফুটবলে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা। মাঠের লড়াই রূপ নিল রণক্ষেত্রে, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হলো খোদ পুলিশকে (জেন্ডারমারি)। সবশেষে রেফারি এক ম্যাচেই ২৪ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন, যা স্থানীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক 'কালো অধ্যায়' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফ্রান্সের মরবিহান অঞ্চলের দ্বিতীয় স্তরের লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আভেনির ডি গুইলি এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডি মরন। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর যখন রেফারি শেষ বাঁশি বাজান, ঠিক তখন থেকেই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। গ্যালারিতে থাকা দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি দ্রুতই খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা গণপিটুনিতে রূপ নেয়।
ফরাসি সংবাদপত্র 'ওয়েস্ট-ফ্রান্স'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরন দলের এক খেলোয়াড়ের বাবা তার ছেলেকে বাঁচাতে হুট করে মাঠে ঢুকে পড়েন। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একে অপরকে লক্ষ্য করে কিল-ঘুষি, এমনকি মাথায় আঘাত করার মতো সহিংস ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তেজনার এক পর্যায়ে লাঠি ব্যবহারের ঘটনাও দেখা গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে রেফারি ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এক সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচে অংশ নেওয়া ২৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকেই লাল কার্ড দেখান তিনি। এর মধ্যে গুইলি দলের ১৩ জন এবং মরন দলের ১১ জন খেলোয়াড় রয়েছেন। ফ্রান্সের ফুটবলে এর আগে এক ম্যাচে এত সংখ্যক লাল কার্ডের নজির দেখা যায়নি।
বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ন্যাশনাল জেন্ডারমারি (ফরাসি পুলিশ) তলব করা হয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অবশ্য মারামারি কিছুটা থেমে এসেছিল।
এই নজিরবিহীন ঘটনার পর আঞ্চলিক ডিসিপ্লিনারি কমিটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ধারণা করা হচ্ছে, উভয় ক্লাবের ওপরই কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।