Image description

২ কোটি রুপি ভিত্তি মূল্যের মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়ে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস আর দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে লড়াই করে কাটার মাস্টারকে নিজেদের দলে নিয়েছিল বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের দল। কিন্তু সেই মোস্তাফিজকেই শেষ পর্যন্ত বাদ দিয়ে দেল কলকাতা। সেই গল্পটা তো সবারই জানা।

এরপর মোস্তাফিজকে অবশ্য বসে থাকতে হয়নি। টাইগার ‘রত্ন’কে ঠিকই দলে টেনে নেয়। তবে সেটা পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্স। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিরতি শেষে এই মুহুর্তে চলছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের জনপ্রিয় দুই লিগ।

আগে শুরু হওয়া পিএসএলে মোস্তাফিজুর রহমান শুরু থেকেই চমক দেখাচ্ছেন। প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ও তুলে নিয়েছে তার দল লাহোর কালান্দার্স। যদিওবা দ্বিতীয় ম্যাচে নাটকীয়ভাবে হেরে গেছে তারা। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ঠিকই ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন টাইগার পেসার।

 

এদিকে, রোববার নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু দুর্ভাগ্য কেকেআরের! ২২০ রান করেও যে হেরে গেছে কিং খানের দল। এমন শুরু দুঃস্বপ্নেও হয়ত ভাবেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। পেসাররা রান বিলালেন পানির মতো। ২৫ কোটি রুপির ক্যামেরন গ্রিন বল করতে পারছেন না। এত সব যখন হচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে- মোস্তাফিজুর রহমানকে কি মিস করছে কেকেআর?

 
 

আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২২০ রান করেও ৫ বল হাতে রেখে হেরেছে কলকাতা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৬ উইকেট হাতে রেখে জিতে নেয় ম্যাচ। এমন দিনে কলকাতার পেসাররা ছিলেন ভীষণ মলিন। বৈভব অরোরা ৪ ওভারে ৫২ রান, ব্লেসিং মুজারাবানি ৩ ওভারে ৩৪ রান আর কার্তিক ত্যাগী ৪ ওভারে ৪৩ রান বিলিয়েছেন। মলিন ছিলেন স্পিনাররাও। ১০ এর নিচে ইকোনোমি রেট ছিল না কারও।

 

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলকাতার সমর্থকরা বলাবলি করছেন, মোস্তাফিজকে দলছাড়া করা ছিল শাহরুখ খানের দলের ভীষণ ভুল। আইপিএল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই কাণ্ড ঘটানোর পর এখন মাথা চাপড়ানো ছাড়া যেন কিছুই করার নেই দলটির। তার ওপর অন্য পেসারদের একের পর এক চোট। শেষমেশ যে পেস লাইনআপ দাঁড় করিয়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা, তা পাহাড়সম রানও ডিফেন্ড করতে পারছে না।

যদিও প্রথম ইনিংসের পর কলকাতা হারবে এমনটি কল্পনাও করেননি কেউ। আজিঙ্কা রাহানের ৬৭, অংকৃষ রঘুবংশীর ৫১, ফিন অ্যালেনের ৩৭ ও রিঙ্কু সিংয়ের অপরাজিত ৩৩ এ ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান জড়ো করে নাইটরা। তবে রিয়ান রিকেলটনের ৮১ আর রোহিত শর্মার ৭৮ রানের ইনিংসে ঠিক ৪ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মুম্বাই। রীতিমতো যেন ছেলেখেলাই করেছে কলকাতার বোলিং লাইনআপ নিয়ে।

অন্যদিকে, মোস্তাফিজ দুর্দান্ত বল করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখছেন। সেইসঙ্গে সতীর্থদের প্রশংসায়ও ভাসছেন টাইগার পেসার।