Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে রয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। কাঁচামাল বা অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির শিডিউল বিপর্যয় ঘটায় শোধনাগারটির মূল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, ফুরিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটির কাঁচামালের মজুত। এরই মধ্যে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন থেকে উৎপাদন কমিয়ে ৩ হাজার ৩০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেল মজুত আছে প্রায় ৩০ হাজার টন। তা দিয়ে বড়জোর সাত-আট দিন উৎপাদন চালানো যাবে। এরপর বন্ধ হয়ে যেতে পারে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আমদানীকৃত ক্রুড অয়েল থেকে ডিজেল, এলপিজি, পেট্রোল, ন্যাপথা, জেট ফুয়েল, বিটুমিন, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়; যার ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশই থাকে ডিজেল। ইআরএলের উপব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ খান জানান, কাঁচামালের নতুন চালান না এলে ৫ এপ্রিলের দু-একদিন আগে-পরে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিতে হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিদেশ থেকে সহসা ক্রুড অয়েলের নতুন চালান আসার সম্ভাবনা নেই। তবে মাতারবাড়ী থেকে এসপিএম প্রকল্পের প্রায় ৩-৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল আনার চেষ্টা চলছে। তা দিয়ে দু-একদিন বেশি সময় প্ল্যান্ট চালানো যেতে পারে।

 জানা গেছে, দেশের মোট বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন। এর ২০ শতাংশের কম ইআরএলে পরিশোধিত হয়। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি সরাসরি পরিশোধিত তেল হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। ইআরএল সূত্র বলছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এরই মধ্যে দুটি জাহাজ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য প্রায় ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি ১ লাখ ৮ হাজার টন লোড করেও সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে রওনা দিতে পারেনি। অন্য একটি জাহাজ তেল লোড করতে গন্তব্যেই যেতে সক্ষম হয়নি। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে ক্রুড অয়েলের একটি চালান আনার চেষ্টা চলছে। তবে তা দেশে পৌঁছাতে এক মাসের বেশি লাগতে পারে। সাধারণত প্রতি দুই মাসে ক্রুড অয়েলের দুটি জাহাজ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু গত এক মাসে নতুন চালান আসেনি। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক তেল শোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৫ দশমিক ৩৩ লাখ টন শোধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সে হিসেবে শোধনাগারটি পূর্ণমাত্রায় সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েলের প্রয়োজন হয়। মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে বিপিসি। ?মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল এ রুট দিয়ে আসায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।