Image description

কাতারের জর্জটাইন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির প্রভাষক জায়দোন আলকিনানি আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সামরিক সংঘাত থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধের দিকে মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, "গত দুই সপ্তাহের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ও ফলাফল সরাসরি যুদ্ধের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে একে অপরের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। তারা প্রকাশ্যে এ অঞ্চলে একে অপরের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক উৎসগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।"

আলকিনানি আরও যোগ করেন, উভয় পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে চাপ বাড়াচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষ হয় শান্ত হয়, নতুবা আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে—ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে আলকিনানি বলেন, এটি একটি উদ্বেগজনক লক্ষণ।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, "যদিও কিছু আঞ্চলিক শক্তি উত্তেজনা কমার আশা করেছিল, কিন্তু ট্রাম্পসহ রাজনৈতিক নেতাদের কথাবার্তা আপস বা সমঝোতার পরিবর্তে আরও কঠোর অবস্থানের দিকেই সরে গেছে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "উভয় পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার কারণে পশ্চিমা বিশ্বসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের দাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

আলকিনানি আরও উল্লেখ করেন, জাপান থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ফোর্সের ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সাগরেই অবস্থান করবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, পরিবর্তনশীল রণকৌশল, ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ এবং সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার ওপর।

আলকিনানি বলেন, "যদিও মার্কিন সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থায় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়, তবুও জনআস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত রোডম্যাপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে সরকার পতনের যে আগের পরিকল্পনা ছিল, তার ব্যর্থতার পর এই প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়েছে।"

 

সূত্র : আল জাজিরা