নতুন কেনা একটি মোবাইল নম্বরে হঠাৎ অপরিচিত ফোন। ওপাশ থেকে জানানো হয়, এই নম্বরের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত থানায় যোগাযোগ করতে হবে। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও কয়েকদিন পর আবার ফোন আসে। এবার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থ পরিশোধের চাপ, কথাবার্তায় স্পষ্ট হুমকির সুর। অথচ যে নম্বরটিতে এসব ফোন আসছে, সেটি তিনি কিনেছেন মাত্র তিন মাস আগে, নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বৈধভাবে নিবন্ধন করে। কোনো অপরাধ, মামলা কিংবা আর্থিক দেনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন একজন গণমাধ্যমকর্মী। বিষয়টি সামনে আসার পর অনুসন্ধানে নামে দৈনিক কালবেলা।
অনুসন্ধানে উঠে আসে এমন এক বাস্তবতা, যেখানে মোবাইল অপারেটরদের রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহৃত সিম নম্বর নীতির কারণে সাধারণ মানুষ পড়ছেন গুরুতর ডিজিটাল, আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে। পুরোনো ব্যবহারকারীর অপরাধ, দেনা, সামাজিক পরিচয় এবং ডিজিটাল ইতিহাসের ভার বহন করতে হচ্ছে নতুন গ্রাহককে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সিম টানা ১১ মাস অব্যবহৃত (ইনঅ্যাকটিভ) থাকলে সেটিকে রিসাইকেল যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে আগে এই সময়সীমা ছিল ১৮ মাস। এরপর সেই নম্বর বাতিল করে নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়।
গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও টেলিটক দেশের ৫টি মোবাইল অপারেটরই নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। তবে নম্বর পুনরায় বিক্রির আগে এর সঙ্গে যুক্ত পুরোনো ডিজিটাল পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আর্থিক সেবা কিংবা অপরাধ সংশ্লিষ্ট ইতিহাস পুরোপুরি মুছে ফেলার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
রাজধানীর মিরপুরে বসবাসকারী এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, নতুন সিম নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তার নম্বরে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপের ওটিপি আসতে থাকে। পরে বুঝতে পারেন, আগের ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এখনো ওই নম্বরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দুই নারী গ্রাহক। তারা বলেন, অপরিচিত পুরুষরা নিয়মিত ফোন করে নাম ধরে ডাকছে এবং ব্যক্তিগত আলাপে জড়াতে চাইছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নম্বরগুলো আগে অন্য নারীদের ব্যবহৃত ছিল।
শুধু সামাজিক হয়রানি নয়, অনুসন্ধানে এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে যেখানে আগের ব্যবহারকারীর নামে নেওয়া ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য এবং পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধের জন্য নতুন গ্রাহকের কাছে ফোন এসেছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংক্রান্ত অভিযোগে জবাব দিতে হয়েছে। এমনকি থানার অনুসন্ধান বা জিজ্ঞাসাবাদের ফোনও এসেছে নতুন গ্রাহকের কাছে। যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
বর্তমানে একটি মোবাইল নম্বর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের ব্যবহারকারী যদি এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে নম্বর ডিলিট না করেন, তাহলে নতুন গ্রাহকরা পরিচয় বিভ্রান্তি ও আইনি জটিলতায় পড়েন। এতে একদিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়।
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ডিলার বা বিক্রয়কেন্দ্র কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করেই সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করে। নম্বরটির অতীত ইতিহাস, কোনো ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত কিনা কিংবা আগের ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহককে কোনো তথ্য বা সতর্কতা দেওয়া হয় না। ফলে সিমটি আইনগতভাবে বৈধ হলেও অদৃশ্য ঝুঁকি থেকে যায়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক আফজালুর রশিদের মতে, কিছু প্রতারক চক্র ইচ্ছাকৃতভাবেই রিসাইকেল সিম ব্যবহার করে। এসব নম্বর আগে থেকেই বহু মানুষের কাছে পরিচিত থাকায় কল বা বার্তা পেলে মানুষ সহজেই বিশ্বাস করে। পুরোনো ডিজিটাল ট্রেস কাজে লাগিয়ে প্রতারণা চালানো তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। এতে সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরাও তদন্ত করতে গিয়ে নানান জটিলতায় পড়ছেন।
দেশে অবৈধ মোবাইল ডিভাইস শনাক্তে জাতীয় পর্যায়ে এনইআইআর চালু থাকলেও মোবাইল নম্বরের ক্ষেত্রে নেই কোনো কেন্দ্রীয় নম্বর ইতিহাস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, ডিভাইস ট্র্যাকিং সম্ভব হলে নম্বরের পরিচয় ও ইতিহাস ট্র্যাকিং কেন সম্ভব নয়? এই নীতিগত শূন্যতাই রিসাইকেল সিমকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
এ বিষয়ে একাধিক মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ীই সিম রিসাইকেল করা হয়। তবে নম্বর পুনরায় বিক্রির আগে এর সঙ্গে যুক্ত পুরোনো ডিজিটাল পরিচয় কীভাবে মুছে ফেলা হয়, সে বিষয়ে তারা কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
রিসাইকেল নীতিমালা বাস্তবায়ন, ডিজিটাল পরিচয় ও ইতিহাস মুছে ফেলা, ভোক্তার নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা, ডিলারদের ভূমিকা, সাইবার ঝুঁকি, নীতিমালা সংস্কার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কালবেলার পক্ষ থেকে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও টেলিটক কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলে প্রশ্ন পাঠানো হয়।
উত্তরে গ্রামীণফোন ও রবি জানায়, তাদের সব কার্যক্রম বিটিআরসির নীতিমালা শতভাগ অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। আর এয়ারটেল জানায়, বিষয়গুলো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতির আওতাভুক্ত হওয়ায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে বাংলালিংক ও টেলিটক কোনো জবাব দেয়নি।
গ্রামীণফোন কাস্টমার সার্ভিস টিমের পক্ষ থেকে শাহরিয়ার তালুকদার কালবেলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১১ মাস অব্যবহৃত থাকা সিম পুনর্ব্যবহারযোগ্য। গ্রামীণফোন গ্রাহকের তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন মেনে কাজ করে। রিসাইকেল সিমে আগের গ্রাহকের এনআইডি ও তথ্য আমাদের সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে। ডিজিটাল ট্রেস সম্পূর্ণ মুছে ফেলা সম্ভব না। এ ক্ষেত্রে যেকোনো হয়রানি বা প্রতারণার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করি।’
মেহেরপুর পৌর এলাকার রক্তিম নামের একজন ভুক্তভোগী জানান, তার বাবা মোখলেছুর রহমান খান অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন। বাবার মৃত্যুর পর নম্বরটি মাঝে মাঝে ব্যবহার করতেন তিনি। হঠাৎ একদিন জানতে পারেন নম্বরটি রিসাইকেল হয়ে গেছে। কোনো নোটিশ বা ব্যাখ্যা না পেয়ে তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
তার ভাষায়, ‘এটি শুধু একটি নম্বর নয়, এটি বাবার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এন এ সিদ্দিকী জুয়েল জানান, তার নামে নিবন্ধিত একটি গ্রামীণফোন সিম দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে যায়। পরে জানতে পারেন, সেই নম্বর অন্য কেউ ব্যবহার করছে। তার প্রশ্ন, গ্রাহককে না জানিয়ে তার নামে নিবন্ধিত সিম কীভাবে অন্যের কাছে বিক্রি করা হয়।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মীর শামীম কালবেলাকে বলেন, ‘তার একটি সিম মাত্র চার মাস বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই অপারেটর কোম্পানি সেটি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। ওই নম্বরে তার ফেসবুক, জিমেইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা যুক্ত ছিল। নতুন ব্যবহারকারী সহযোগিতা না করে উল্টো গালাগালি করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাইবার ইউনিটের সহায়তায় তিনি সাময়িকভাবে কিছু অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তার ড্রাইভিং লাইসেন্সে ওই নম্বরটি এখনো সংযুক্ত রয়েছে, যা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।’
এ বিষয়ে বিটিআরসির উপ-পরিচালক ফারহান আলম কালবেলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘রিসাইকেল সিম বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক এবং তা লঙ্ঘিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
তিনি জানান, কোনো সিম ১১ মাস বন্ধ থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় (ডি-অ্যাকটিভেটেড) হয়ে যায়। বিটিআরসির অনুমোদন সাপেক্ষে অপারেটররা সেটি পুনরায় বিক্রি করতে পারে।
বিটিআরসিতে দেওয়া মেইলের পরিপ্রেক্ষিতে ফারহান আলম লিখিত উত্তরে জানান, সিম পুনর্বিক্রির আগে অপারেটররা সংবাদপত্র ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে সিম নম্বরের তালিকা প্রকাশ করে। অপারেটররা গ্রাহকসংক্রান্ত তথ্য সর্বোচ্চ দুই বছর সংরক্ষণ করে এবং নির্ধারিত সময় পার হলে তা মুছে ফেলা হয়। ফলে নতুন গ্রাহকের সঙ্গে পূর্ববর্তী গ্রাহকের কোনো ডিজিটাল পরিচয় বা ব্যবহার ইতিহাস যুক্ত থাকে না।
তার দাবি, ‘রিসাইকেল সিম ব্যবহারের কারণে কোনো অপরাধ বা ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায় নির্ধারণ কঠিন নয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলো সিম ব্যবহারের সময়কাল ও ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বর্তমানে মোবাইল নম্বর রিসাইকেলের আগে কোনো কেন্দ্রীয় নম্বর হিস্ট্রি ক্লিয়ারেন্স সিস্টেম নেই। তবে কোনো নম্বরের সঙ্গে এমএফএস অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে তা যাচাই করে সিম রিসাইকেল করা হয় না।’
এনইআইআর প্রসঙ্গে ফারহান আলম বলেন, ‘সিম ছাড়া ডিভাইস ট্র্যাকিং সম্ভব নয়। তাই মোবাইল নম্বরের জন্য আলাদা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।’
রিসাইকেল সিম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে গ্রাহককে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে জানাতে এবং সমাধান না পেলে বিটিআরসিতে অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিটিআরসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিবেদকের আলাপচারিতায় জানা গেছে, রিসাইকেল করা সিম থেকে ডিজিটাল ট্রেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট করা কার্যত অসম্ভব। বিশ্বের অন্য কোনো দেশেও এটি পুরোপুরি করা সম্ভব কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে রিসাইকেল সিমের কারণে গ্রাহক কোনো ডিজিটাল বা আইনি সমস্যায় পড়লে অপারেটরদের গ্রাহককে সহযোগিতার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তারা আরও জানান, সিম রিসাইকেলের আগে গ্রাহককে জানানো ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বর্তমানে অপারেটররা তা যথাযথভাবে মানছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা প্রতিবেদককে বলেন, ‘অপারেটর কোম্পানিগুলো সিম বিক্রির ক্ষেত্রে নানা প্রলোভনমূলক অফার দিয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করে। এসব অফারে আকৃষ্ট হয়ে অনেক গ্রাহক একসময় ২০ থেকে ২৫টি পর্যন্ত সিম কিনেছেন। অফারের মিনিট বা ইন্টারনেট শেষ হলে সিম খুলে রেখে নতুন সিম ব্যবহার করেন। এতে রিসাইকেলের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের সচেতনতাও জরুরি। ইনকাম ট্যাক্স, জমি রেজিস্ট্রেশন, টিআইএন সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কোনো ভালো প্র্যাকটিস নয়। বিশ্বের অনেক দেশে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক হলেও নম্বর পরিবর্তনের সহজ পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে একবার কোনো কাগজে মোবাইল নম্বর যুক্ত হলে তা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী। অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রিসাইকেল সিম অপারেটরদের কাছে হয়তো এটি একটি ব্যবসায়িক বাস্তবতা। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠছে অদৃশ্য অথচ গভীর ঝুঁকির ফাঁদ। ডিজিটাল যুগে একটি মোবাইল নম্বর যখন পরিচয়ের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি, তখন প্রশ্ন থেকেই যায়, একটি নম্বর বদলালেই কি দায় বদলায়, নাকি পুরোনো অপরাধ, দেনা ও ঝামেলার ভার বইতে হয় নতুন গ্রাহককেই?