ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও ক্রিকেটীয় নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে চায়, তবে তা ভারতের বাইরে আয়োজন হওয়া চাই। বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি এবং আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ঢাকায় আলোচনা করতে এসেছে বলেও জানান।
ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং এর পেছনে ভারতীয় বোর্ডের প্রভাব। ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সহিংসতার খবরের প্রেক্ষিতেও ভারতীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, কেকেআরকে মুস্তাফিজকে বাদ দিতে বলা হয়েছে। এর পর কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেওয়া থেকে সরে আসে।
বাংলাদেশে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেইসবুকে লিখেন, তিনি বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া নিরাপদ মনে করছেন না এবং আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর ফলে তথ্য মন্ত্রণালয় ৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে আইপিএলের সব খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
নিরাপত্তার কারণে বিসিবি ভারতের স্থলে অন্য দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে অনুরোধ করে। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলার আগ্রহে অনড়। বাংলাদেশের তরফ থেকে এই অবস্থান পরিস্কার করে দিয়েছে যে, দেশের ক্রিকেট নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে আপস হবে না, তাই ভারতে খেলতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।