Image description

গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস কাতার বিশ্বকাপে ‘বাজপাখি’ উপাধি পেয়েছিলেন। আর্জেন্টিনা জিতেছিল বিশ্বকাপ। সেই এমি মার্তিনেস কিছুদিন আগে শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার গোলপোস্টে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তবু স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছে। এই বিশ্বকাপের একটি ঘটনায় বাজপাখির ওপর চটেছেন তারই দেশের জনগণের একাংশ।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আনন্দে মেতে উঠেছিল গোটা আর্জেন্টিনা দল। উদযাপনের মাঝেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা প্রদর্শন করে ফকল্যান্ডস ব্যানার, যা নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। ফিফা রীতিমতো তদন্ত করছে ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা সম্বলিত সেই রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে। এই ব্যানারের সৌজন্যেই বিতর্ক হচ্ছে এমিকে নিয়ে।

এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, জিওভানি লো সেলসোরা যখন ফকল্যান্ডস ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন, এমি মার্তিনেসকে তখন দেখা যায় দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে। তিনি সতীর্থদের এই উল্লাস ও ব্যানার প্রদর্শনের মুহূর্তটিতে ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ফকল্যান্ডস ব্যানার প্রদর্শনের সময় এমি মার্তিনেস দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ।ব্যানারটি থেকে এমি মার্তিনেসের দূরে দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘ট্রিবিউনা’ জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার কিছু উগ্র সমর্থক এই ঘটনায় এমি মার্তিনেসের ওপর বেজায় চটেছেন। ম্যাচ শেষে এমির একটি বক্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মিক্সড জোনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ফকল্যান্ডস যুদ্ধ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে কিনা। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় না এর কারণে এমনটা হয়েছে। এটি অতীতের বিষয়। তখন আমার জন্মই হয়নি।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফকল্যান্ডস বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধে কয়েকশত মানুষ মারা যায়। ফুটবল মাঠে এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। ফিফার নিয়মানুযায়ী, যেকোনো খেলার মাঠে বা টুর্নামেন্টে রাজনৈতিক, আক্রমণাত্মক বা অক্রীড়াসুলভ কোনো ধরনের ব্যানার বা প্রতীক ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই ঘটনার জেরে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।