Image description

ফিফা বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের ঐতিহাসিক জয়ের রাতে এক অনন্য রেকর্ড নিজের করে নিলেন স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৭ দিন বয়সে ফাইনালে মাঠে নেমে এবং ১২০ মিনিটের পুরো ম্যাচ খেলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কনিষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।

​বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেঞ্চে বসে শিরোপা জেতার নজির (যেমন ১৯৯৪ সালে ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের রোনালদো) থাকলেও, সরাসরি ফাইনালে মাঠে নেমে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার স্বাদ পাওয়া কিশোরদের সংখ্যা খুবই কম। স্পেনের এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের সেই বিশেষ এলিট ক্লাবে এখন ৩ নম্বর স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ইয়ামাল। একই সাথে তিনি চলতি একবিংশ শতাব্দীর কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনাল খেলা ও জেতার অনন্য কীর্তি গড়লেন।

​ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে সরাসরি ফাইনাল খেলা ও জেতার রেকর্ডটি এখনো ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে যখন পেলে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জুসেপ্পে বের্গোমি, যিনি ১৯৮২ সালের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর ১৭৪ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন।

​২০২৬-এর এই ফাইনালে স্পেনের হয়ে মাঠে নেমে ইয়ামাল ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে চার নম্বরে নামিয়ে দিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানটি নিজের করে নিলেন। ২০১৮ সালের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করার দিনে এমবাপ্পের বয়স ছিল ১৯ বছর ২০৭ দিন। এক সপ্তাহ আগেই ১৯ বছরে পা রাখা ইয়ামাল এখন এমবাপ্পের চেয়েও কম বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতার গৌরব অর্জন করলেন।

​১ম আসরেই পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ ড্রিবলিং ও গতিতে প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করার পর, ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াইয়ে মাঠে ছিলেন ইয়ামাল। প্রথম বিশ্বকাপেই পেলের সেই ঐতিহাসিক পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফুটবল বিশ্বের নতুন রাজা হিসেবে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে রাখলেন স্পেনের এই তরুণ ফরোয়ার্ড।