Image description

উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপে টিকিটের চড়া দাম এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল গ্যালারি হয়তো আংশিক ফাঁকা থাকবে। কিন্তু নকআউট পর্বের রাউন্ড অব সিক্সটিন শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে সেই আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। প্রতি তিনটি ম্যাচের দুটিতেই সব টিকিট বিক্রি হয়েছে। আর কোনো ম্যাচেই গ্যালারি উপস্থিতি ৯৭ শতাংশের নিচে নামেনি।

৪৮ দল ও ১০৪ ম্যাচের এই ২০২৬ আসর মোট দর্শক উপস্থিতিতে ভেঙে দিতে যাচ্ছে আগের রেকর্ড, যা ছিল ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দখলে। সেবার প্রায় ৩৫ লাখ দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছিলেন। এবার মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে গতকাল টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের জয় পর্যন্ত সেই সংখ্যা এরইমধ্যে ৬২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাকি আটটি ম্যাচ শেষ হতে হতে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।

স্টেডিয়ামে এই ব্যাপক উপস্থিতি ফিফার জন্য একটি বড় সাফল্য, শুধু সংখ্যার হিসেবে নয়। এটি সংস্থাটির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সফলতাও প্রমাণ করে, যেখানে মোট আয় কাতার ২০২২-এর ৯৫ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ৩০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল।

এই লক্ষ্য পূরণে ফিফা টিকিটিং ব্যবস্থায় এনেছে নতুনত্ব, যার মধ্যে অন্যতম ডায়নামিক প্রাইসিং। প্রতিটি টিকিটের জন্য নির্দিষ্ট মূল্য না রেখে, চাহিদা ও আসন প্রাপ্যতার ভিত্তিতে রিয়েল টাইমে দাম ওঠানামা নির্ধারণে একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছে সংস্থাটি। অনেকটা বিমান সংস্থা এবং এনবিএ, এনএফএলের মতো আমেরিকান লিগগুলোর ধাঁচে।

আয় বাড়ানোর আরেকটি উপায় হিসেবে ফিফা তার নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে সরকারি পুনঃবিক্রয় ব্যবস্থা চালু করেছে। সেখানে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে ফি নেওয়া হচ্ছে।
পুনঃবিক্রয়জনিত মূল্যবৃদ্ধি সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে।

মায়ামি এলাকায় এক দশকের বেশি সময় ধরে বসবাসরত ও রাইডশেয়ার চালক হিসেবে কর্মরত ব্রাজিলিয়ান নাগরিক মার্কোস নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রুপপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ দেখার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছিলেন বাড়তি অর্থ উপার্জনের জন্য। প্রায় ২৬০ ডলার করে টিকিট কেনার পর, বিপুল চাহিদা দেখে তিনি সেগুলো পুনঃবিক্রির সিদ্ধান্ত নেন এবং দ্রুতই দশ গুণ বেশি দামে কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতা খুঁজে পান, ‘খেলাটা দেখার ইচ্ছা সত্যিই ছিল, কিন্তু ওই টাকাটা আমার বাজেটে বড় পার্থক্য তৈরি করবে।‘