Image description

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফরেন অ্যাফেয়ার্স এবং জাতিসংঘসহ বেশ কয়েকটি মিশনে দায়িত্ব পরিবর্তন করা হচ্ছে। সূত্র মতে, পররাষ্ট্র সচিব, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, দিল্লি ও লন্ডনে 
হাইকমিশনার এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চূড়ান্ত। নতুন করে দায়িত্ব পেতে যাওয়া দুই জনের নিয়োগ হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। যার মধ্যে একজনকে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই প্রথম বড় রকমের রদবদলের সিদ্ধান্ত নিলো সরকার।
তথ্যমতে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ পদে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাবেন।

মন্ত্রিপরিষদের মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের জারি করা এক গেজেটে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন আইরিন খান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা উন্নয়ন ও সুরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইরিন খান। আগামী মাসে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ৬৯ বছর বয়সী আইরিন খান বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি টানা আট বছর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। পরে রোমভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশন (আইডিএলও)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইরিন খান এ দায়িত্ব গ্রহণে সম্মতি দেন। বর্তমানে তিনি বিদেশে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরে নিয়োগ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরী। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিব পদে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হয়ে দিল্লি যাচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। আর দিল্লির বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত মার্চ থেকে বৃটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পদটি খালি।

লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে সরকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির বর্তমান রেক্টর ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ মিশনে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বিএনপি’র তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। নিউ ইয়র্কে স্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগের পরই এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফরহাদুল ইসলামকে মরিশাসে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাকে জকি আহাদের স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে। সরকার এরই মধ্যে জকি আহাদকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর ও ইরান দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের পদ খালি রয়েছে। সেখানেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবছে সরকার।