মজুরি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ১ দশমিক ২১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় শ্রমিকদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) জুন মাসের ‘অর্থনৈতিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এসব তথ্য। বুধবার রাতে প্রকাশ করা হয় এ প্রতিবেদনটি।
প্রতিবেদনে জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন বলেন, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ব্যাপক মূল্যচাপের কারণে এপ্রিলের ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে মে মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং প্রকৃত আয় কমেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বার্ষিক আমানত প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় শক্তিশালী হয়েছে ব্যাংকিং খাতের তারল্য। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে সীমিত ছিল।
এতে আরও বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মে মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে। ফলে তিনটি প্রধান রাজস্ব উৎস মিলিয়ে ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার কমে ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে মোট উন্নয়ন ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির কারণে ২৬ মে পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিস্থাপকতা বজায় ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।