আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার জন্য এলো এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় মুহূর্ত! ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে জায়গা করে নিয়েছেন ফিফার অফিশিয়াল মিউজিক অ্যালবামে। তিনি আমাদের শ্রীমঙ্গলের সন্তান, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। গত ৪ জুন ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বড় ঘোষণাটি দিয়েছে।
ফিফা ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামে স্থান পাওয়া সঞ্জয়ের তৈরি এই ধামাকা ট্র্যাকটির নাম ‘সির সির’। তবে চমক এখানেই শেষ নয়! এই গানে সঞ্জয়ের চোখধাঁধানো বিটের সাথে তাল মিলিয়েছেন বলিউডের ‘ড্যান্সিং কুইন’ নোরা ফাতেহি এবং বিখ্যাত ফরাসি পপ তারকা ভেজেড্রিম। গতকাল ৫ জুন পুরো অ্যালবামটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে এবং সঞ্জয়ের এই ফিউশন মিউজিকটি ইতিমধ্যেই গ্লোবাল চার্টে ঝড় তুলতে শুরু করেছে।
অ্যালবামে নাম লেখানোর পাশাপাশি আরও একটি অবিশ্বাস্য সুখবর হলো— ২০২৬ বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও স্টেজে দাঁড়িয়ে লাইভ পারফর্ম করবেন ডিজে সঞ্জয়। কোটি কোটি দর্শকের সামনে বিশ্বমঞ্চ মাতানোর এই সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত সঞ্জয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন—‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমার তৈরি গান বাজবে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল। সান জোসেতে বড় হলেও আমার মনটা সবসময় আমার শেকড়কে খুঁজেছে। এই অর্জন আমি উৎসর্গ করলাম পৃথিবীর সেই সব সাধারণ বাচ্চাদের, যারা বড় হওয়ার এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস রাখে।’
সঞ্জয়ের জন্ম চায়ের রাজধানী খ্যাত সিলেটের শ্রীমঙ্গলে। এরপর শৈশবের একটা বড় সময় কেটেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে পরিবারের সাথে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। তবে আমেরিকার আধুনিক পপ কালচারে মিশে গেলেও নিজের বাংলাদেশী শেকড় আর সংস্কৃতির ফিউশন কখনোই ভোলেননি তিনি। সংগীতের এই প্রতিভা তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকারসূত্রে; তার মা এবং দাদী দুজনেই গানের জগতের মানুষ ছিলেন।

এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে নোরা ফাতেহি নাচ দিয়ে বাজিমাত করলেও, ২০২৬-এর উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ব্যাকস্টেজের মূল মিউজিক ডিরেকশন ও উদ্বোধনী মঞ্চের দখল যাচ্ছে এক বাংলাদেশীর হাতে— যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংগীতের এক নতুন যুগের সূচনা করল।