Image description

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাকাটা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা ভুক্তভোগী শিশুর প্রতিবেশী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা কয়েক বছর আগে তার মাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে সে তার নানার বাড়িতে থাকত। তার মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে কলাগাঁও গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে একটি বাথরুমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকরে ওই দুই কিশোর। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। শিশুর নানীর অভিযোগ, এর আগে গত অগ্রহায়ণ মাসেও ওই দুই কিশোর তার নাতনিকে একইভাবে ধর্ষণ করেছিল।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ধর্ষণের পর শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরলে অভিযুক্তদের পরিবার অর্থ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ও আপোসের চেষ্টা করে। চিকিৎসার জন্য তারা শিশুর পরিবারকে কিছু টাকাও দেয়। অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় পরিবারটি স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দিয়ে শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। কিন্তু তিন দিন ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে পড়ে।

কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ আলম সাদ্দাম জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এবং সাংবাদিকদের নজরে এলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে বিকেলে গ্রামবাসী পাশের লামাকাটা গ্রাম থেকে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে কলাগাঁও বাজারের বণিক সমিতির কার্যালয়ে আটকে রাখে এবং থানায় খবর দেয়।

আজ রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর নানীর পক্ষ থেকে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর নানী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।