Image description

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ১০ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার এক যৌথ শোকবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘প্রশান্তির খোঁজে বেড়াতে এসে পর্যটকদের এমন মর্মান্তিক পরিণতি পরিবারগুলোর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এ ঘটনা দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকে চরমভাবে উন্মোচিত করেছে।’

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী কাঠের তৈরি এই রিসোর্টটি পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমনপথ ছাড়াই অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এমন অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঘাটতির পরও এটি কীভাবে চালু ছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট প্রাণহানির দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বললেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তারা।

শিবির নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে অনুমোদনহীন রিসোর্ট পরিচালনাকারী মালিকপক্ষ এবং তদারকিতে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রে আধুনিক ও সমন্বিত রাষ্ট্রীয় তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অগ্নিনিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পরিদর্শনের আহ্বান জানান তারা।