কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জামায়াতের দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দিয়েছেন প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ শনিবার সকালে মেশিনটি ফিরিয়ে দেন তিনি।
উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে ঝুমা আক্তারের বাড়ি থেকে সকাল ৯টার দিকে মেশিনটি নিয়ে যান জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও বার্তায় ঝুমা আক্তার বলেন, স্বামীর এক বন্ধু মেশিনটি দিয়েছেন বলে জানতেন। এটি জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া, তা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানার পর গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তিনি মেশিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। পরে ঝুমা আক্তার ফোন করে সেটি ফেরত নিতে অনুরোধ করেন।
তবে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেনের দাবি, ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্ধুর পরিবারকে মেশিনটি দিয়েছিলেন। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন তারা। এ কারণে মেশিনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, মানবিক কারণে পরিবারটিকে সহায়তা করা হয়েছিল। পরিবারটি কোনো রাজনৈতিক চাপে পড়ুক, তারা তা চান না।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী বলেন, মেশিন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঝুমা আক্তার মেশিনটি ফেরত দিয়েছেন। তার পরিবারের জন্য শৌচাগার নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন ও বাড়ি মেরামতের কাজ চলছে। ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করার চেষ্টা চলছে।
সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন ঝুমা আক্তার। তার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই গত মঙ্গলবার জামায়াতের স্থানীয় নেতারা তাকে সেলাই মেশিনটি উপহার দিয়েছিলেন।