পাবনার ঈশ্বরদীতে মুফতি আমির হামজার আসন্ন ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল।
এ দাবিতে শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদী থানায় একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন সাহাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন। তিনি ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন।
আগামী ২১ অক্টোবর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে এক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওয়াজ মাহফিল ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার কিংবা কোনো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হলে স্থানীয় পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন বলেন, তারা ওয়াজ মাহফিল বন্ধের কোনো দাবি জানাচ্ছেন না। বরং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য, আপত্তিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ না হয়, সেটিই তাদের মূল প্রত্যাশা। ঈশ্বরদীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই প্রশাসনকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মাহফিলের আলোচনা কেবল কোরআন-হাদিসের শিক্ষা ও ধর্মীয় বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, একটি ইসলামী মাহফিলকে ঘিরে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এভাবে থানায় স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মাহফিলের আগেই থানায় স্মারকলিপি দেওয়ার এই ঘটনাকে অনেকে বক্তাদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।