ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে আদালতে হাজির করার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের সুইহারি ড্রাইভারপাড়া এলাকা থেকে মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনকালে পিআইও নুরনবী সরকারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা সভাপতি সোহরাব আলী, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীসহ কয়েকজন তার কক্ষে ঢুকে মারধর করেন এবং অফিসে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় পিআইও নুরনবী সরকার বাদী হয়ে মামুনুর রশিদ মামুন, সোহরাব আলী, জাফর আলী, জিয়াউর রহমান, রাকিব ফেরদৌসসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী পিআইও নুরনবী সরকার অভিযোগ করে বলেন, মামুনুর রশিদ মামুন বিভিন্ন সময় আমার কাছে ভাগ-বাটোয়ারা দাবি করতেন। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিকল্পিতভাবে অফিসে এসে আমার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং সোহরাব ও জাফর আমাকে মারধর করেন। তারা অফিস কক্ষ তছনছ করে।
ঘটনার পর ৮ এপ্রিল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই দিনে রাণীশংকৈল অফিসার্স ক্লাবও পৃথক প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়।
অন্যদিকে, মামলায় জিয়াউর রহমান জিয়া ও রাকিব ফেরদৌসকে আসামি করার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, জিয়াউর রহমান জিয়া ও রাকিব ফেরদৌস ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়েছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাতেও অফিস খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা পিআইও কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীকে মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।