এক দম্পতির পারিবারিক কলহে হস্তক্ষেপ নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’দল ছাত্র বিরোধে জড়ায়। এর জেরে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে চার ছাত্রকে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময়ে সেখানে মব করে ভীতিকর অবস্থা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে নগরের অন্যতম আবাসিক এলাকা রুপাতলী হাউজিংয়ে ‘ছায়া নিকেতন’ নামক একটি ভবনে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ওই হাউজিং এলাকা। অভিযোগ তোলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ছাত্ররা ওই ভবনে ছাত্রলীগের গোপন সভা করছিলো। গ্রেপ্তার ৪ ছাত্র হলো- ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া ববি ছাত্র মৃত্তিকা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাহমুদুল হাসান পলাশ, একই বিভাগের আকরাম খান ইমন, মার্কেটিং বিভাগের রাকিব হাসান রনি ও মুয়িদুর রহমান বাকি। এরা সবাই ইতিমধ্যে ছাত্রত্ব শেষ করেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ওই এলাকায় ডিসের লাইন সরবরাহকারী রুম্মন হাওলাদার নামক একজনকে ছাত্রদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবাইকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি।
জানা গেছে, ছায়া নিকেতন ভবনে ববির শিক্ষার্থী তমাল ও ইমন ভাড়ায় থাকেন। ভবন মালিক সাইফুর রহমান শুভ ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছে। স্ত্রীর পক্ষ হয়ে ববির কয়েকজন ছাত্র শুক্রবার রাতে ওই ভবনে যায়। শুভ’র সঙ্গে উচ্চবাচ্য চলাকালে ভবনের ভাড়াটিয়া ও শিক্ষার্থী তমাল সেখানে উপস্থিত হন। তিনি পারিবারিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তখন দু’পক্ষের মধ্যে তর্কতর্কি হয়। তখন বাহির থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সঙ্গীদের খবর দেন যে, ওই ভবনে ছাত্রলীগ আছে। এরপরে ক্যাম্পাস থেকে আরও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এসে ভবনটি ঘেরাও করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। কোতোয়ালী পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়।
ছায়া নিকেতন ভবনের পাশের ভবনে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান পলাশ। তিনি সমকালকে বলেন, ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তমাল জুলাই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম নেতৃত্ব দিয়েছে। ওই বছরের ১ আগস্ট তিনি গ্রেপ্তার হন। আকরাম খান ইমন ৫ আগে ছাত্রদলে সক্রিয় ছিলো। কিন্তু পদ না পেয়ে নিষ্ক্রিয় হন।
অন্য শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, রণি ও বাকির ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে তাদের কোনো পদপদবী নেই। কাছাকাছি সময়ের শিক্ষাবর্ষের হওয়ায় তমাল ও ইমনের ভাড়া বাসায় বাকি ও রনির যাতায়াত ছিলো। শুক্রবারের ঘটনা শুনে বাকি ও রনি ওই বাসাতে যায়। চারজনকে সেখান থেকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ‘ছায়া নিকেতন’ নামক ভবনের মালিক সাইফুর রহমানের শুভ’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য পারিবারিক কলহ চলছিলো। স্ত্রীর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হুমায়ুন নামক একজনসহ ছাত্রদলের কয়েকজন আমার বাসায় আসে। তখন আমার ভাড়াটিয়া অন্য ছাত্রদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তখন তাদেরকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে বাসায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, তাদের ছোট ভাইয়েরা খবর পায় যে ছাত্রলীগের লোকজন একটি বাসায় অবস্থান নিয়েছে। এক পর্যায়ে উৎসুক জনতা তাদের আটকে পুলিশে দেয়। কোন মব সৃষ্টি করা হয়নি। স্থানীয়রা ছাত্রলীগের সঙ্গে একজন মাদকসেবীকেও আটক করেছে। মামলা দায়ের করেছে ছাত্রদলের কর্মী হুমায়ুন কবির। তারাও ওই মামলার সাক্ষী।