পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল খনন, নদী-নালা, এলাকার উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক, প্রাণী-মৎস্য, পশুপালনের দিকে প্রেসিডেন্ট জিয়ার নজর ছিল। আজকে প্রেসিডেন্ট জিয়া নাই, তার অনেক অসমাপ্ত কাজ আছে। খালেদা জিয়া অনেক চেষ্টা করেছেন। উনারও অনেক অসমাপ্ত কাজ আছে। এগুলো সমাপ্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশটাকে স্বনির্ভর করা আর লক্ষ্মীপুরকে স্বনির্ভর করা আমাদের নতুন অঙ্গীকার। যা আমরা নির্বাচনের সময় বলেছি, এখনো বলছি। সামনে সেই ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করছি আমরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’র আওতায় জেলেদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যানারে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নদীতে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময় সরকার আগের চেয়ে বরাদ্দ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি উদার নীতি ও সম্মান। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুনভাবে চিন্তা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণের পর প্রথমদিন থেকে খুব দায়িত্ব নিয়ে জনগণের পাশে থাকা, জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি, জনগণের অঙ্গীকার রক্ষা করে প্রতিদিন একটা না একটা কাজ জনগণকে পৌঁছে দিচ্ছেন এবং জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সময়টাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দ্বারপ্রান্তে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যা যা করার জন্য সে কাজগুলোই তিনি প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় খাস জমিতে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে জরিপ শুরু করা হয়েছে। এটা আমাদের এলাকা ও দেশের উপকারে আসবে। সেখানে কৃষিভিত্তিক কলকারখানা গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের এই অঞ্চলটা খুব বেশি সম্ভাব্যময়। এরসঙ্গে ভবানীগঞ্জ-মতিরহাটের রাস্তা করে দিলে ওই অঞ্চলের জন্য সোনায় সোহাগা। অত্র অঞ্চল বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লার মাঝখানে লক্ষ্মীপুর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এলাকা হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, কৃষি ভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। উৎপাদন উন্নয়নের ব্যবস্থা হবে। এলাকার মানুষ স্বাবলম্বী হবে। লক্ষ্মীপুরটা স্বনির্ভর হবে, সেইদিকে যাচ্ছি। এটা প্রেসিডেন্ট জিয়ার রাজনীতি।
লক্ষ্মীপুরবাসীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, যতবার নির্বাচন হয়েছে, ততবার আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন, বিএনপিকে নির্বাচিত করেছেন। ফ্যাসিবাদ যখন ছিল ততদিন ততক্ষণ আমাদেরকে উপেক্ষিত করেছে। বঞ্ছনার শিকার হয়েছি, অবহেলার শিকার হয়েছি আমরা। জনগণের সরকার দায়িত্বে আসার পর আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমাদেরকে যেন উপেক্ষা এবং অবহেলার চোখে আর দেখা না হয়। আমরা যেন আর কখনো বঞ্চিত না হতে পারি।
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হেমায়েত হোসেন, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান ও বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি।