একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকতাকে বলা হয় চতুর্থ স্তম্ভ। জনমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং রাষ্ট্রের অসংগতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার কথা ছিল এই পেশার মানুষের। সাংবাদিকদের হওয়ার কথা ছিল সমাজের আয়না বা দর্পণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সময়ে আমরা এক চরম অবক্ষয় প্রত্যক্ষ করছি। যে দর্পণে সমাজের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠার কথা ছিল, সেখানে আজ কেবল রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কুৎসিত প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে।
খাব্বাব হোসেন ত্বহা উল্লেখ করেন, আজকের সাংবাদিকতার বড় একটি অংশ জনকল্যাণ ছেড়ে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের পা-লেহনে ব্যস্ত। যে কলম দিয়ে শোষিতের কথা লেখার কথা ছিল, সেই কলম আজ ব্যবহৃত হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট নেতার গুণগানে অথবা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে। এই নির্লজ্জ তোষামোদি কেবল পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়ের জায়গাটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। নিরপেক্ষতা আজ কেবল অভিধানেই সীমাবদ্ধ; বাস্তবে সাংবাদিকরা আজ ‘দলীয় তকমা’ গায়ে জড়িয়ে বিভাজনের রাজনীতিতে লিপ্ত।
তাঁর মতে, সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো ভিন্ন মতকে দমন করার প্রবণতা। কোনো সাংবাদিক বা নাগরিক যদি ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ধারার বাইরে কোনো সত্য তুলে ধরেন, অমনি তাকে বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষায়িত করে ‘ট্যাগ’ দেওয়া হচ্ছে। সত্যের অপলাপ ঘটিয়ে ভিন্ন মতাবলম্বীদের একঘরে করার এই নোংরা খেলায় তথাকথিত সাংবাদিকদের একটি অংশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সংবাদিকতার নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে তারা আজ রাজনৈতিক দলের অঘোষিত মুখপাত্রে পরিণত হয়েছেন।
খাব্বাব হোসেন ত্বহা আরও বলেন, সাংবাদিকতা যখন দলীয় দাসের রূপ নেয়, তখন রাষ্ট্রের কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যায়। জনগণের সঠিক তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা প্রশ্রয় পায়। দেশের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকদের পুনরায় তাদের পুরনো মর্যাদায় ফিরে আসা জরুরি। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে জনকল্যাণে কাজ করাই হোক প্রকৃত সাংবাদিকতা। চাটুকারিতা ও ট্যাগিংয়ের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি পথভ্রষ্ট ও আস্থাহীন সংবাদ মাধ্যম পাবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।