প্রায় দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিনের মাথায় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এই ঘটনা জানাজানির পর ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। একপর্যায়ে সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মহানগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে এদিন দুপুরে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে তাতে মালা পরিয়ে দেন।
বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে উত্তেজনা শুরু হলে সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ওই কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং অগ্নিসংযোগ করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বিকেলে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু তালাবদ্ধ থাকায় তখন ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে কার্যালয় যারা খুলেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছবি টাঙানোর পর স্থানীয়রা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের খুলনা জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সামনে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো ও মাল্যদানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি মিডিয়া সেল প্রদত্ত গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।