আবারও কেউ ফ্যাসিবাদের রূপ নিয়ে আসলে তাদের ডাবল লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে মা-বোনেদের ভয় পেতে হবে না। তাদের সম্মান রক্ষায় জীবনের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করবো। তাদের মাথায় তুলে রাখবো। রোববার সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে উত্তর কাফরুল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাইশটেকি কবরস্থান মসজিদের সামনে থেকে আয়োজিত গণসংযোগ ও মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশের যুবক-যুবতীরা খুবই সেনসিবল। তারা আগামীতে রায় দিবেন। তাদের রায়ই হবে চূড়ান্ত রায়। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ সেই রায় দেখবেন ইনশাআল্লাহ। সন্তানের ভবিষ্যতের আশায়, দেশের কল্যাণের জন্য মানুষ নেমে এসেছেন। আমরা কথা দিচ্ছি ৫ বছর বেঁচে থাকলে আপনাদের প্রতিদান দিব।
কর্মসংস্থানের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করবো না। তাদেরকে কাজ দিয়ে মজবুত কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই। তাদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই। অতীতের কু-খাসলত যারা ছাড়তে পারছেনা তারা ফের ষড়যন্ত্র করছে। তবে বলে দিচ্ছি বাংলাদেশের রাজনীতির চাকা পেছনের দিকে চলবেনা। যুবকদেরকে দেশ পরিচালনায় ককপিটে বসাতে চাই। আমরা বসতে চাই প্যাসেঞ্জারের সিটে।
জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই আমার মা-বোনেদের অপমান করা হয়েছে। জনগণ ফ্যাসিবাদকে যেভাবে লালকার্ড দেখিয়েছে। আবারও কেউ ফ্যাসিবাদের রূপ নিয়ে আসলে তাদেরকে ডাবল লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করা হবে। কারণ ঢাবিতে মেয়েদের ওপর যখনই আক্রমণ করা হয়েছিল। তখনই কিন্তু দেশে আন্দোলন হয়েছিল। আমি বলবো- যে মাকে অপমান করেছো মাফ চাও। আল্লাহও মাফ করতে পারেন। কিন্তু সেই পথ না ধরে বাঁকা পথে হাটলে আপনাদের পথ বন্ধ করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের কথাবার্তায় যদি কোনো মা-বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের ক্ষমার চোখে দেখবেন। আমরা যেন নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করতে পারি; আল্লাহ আমাদের কবুল করে নেন। আমরা কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাই না।
তিনি বলেন, আমার টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আমার মা-বোনদের নিয়ে কুৎসিত ও নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে। আল্লাহকে বলব- আপনিই বিচার করুন। মা-বোনদের মাথায় তুলে রাখবো ইনশআল্লাহ। তাদের সম্মান রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো।
সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, চরিত্র ও কর্ম নিয়ে সামনে আসো। আজকে তরুণ-যুব সমাজ ও নারী সমাজ জেগে উঠেছে। কারণ তরুণদের ভোটের অধিকারকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে সেই দিন শেষ, এখন যুবকরা জাগ্রত। এ জন্যই তাদের মাথা গরম হয়ে গেছে। তবে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে দিয়েছে এটাই বাংলাদেশ। জনগণকে তাদের রায় শান্তিমত দিতে দাও। সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটার ও সাড়ে চারকোটি মা ভোটার।
উপস্থিতি সবার উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে ইনশাআল্লাহ। আসুন আমাদের প্রথম ভোট হোক ‘হ্যাঁ’। এরপর হোক ন্যায় বিচার ও পরিবর্তনের মার্কা দাঁড়িপাল্লায়। বিজয়ী হলে এই এলাকায় (ঢাকা-১৫) সকল সমস্যার সমাধান করা হবে ইনশাআল্লাহ। কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। ন্যায় বিচার সবাই পাবে। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজ বন্ধ হলে মানুষের ওপর ৭০ ভাগ শান্তি নেমে আসবে।
জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে মা-বোনেদের ভয় পেতে হবে না। কারণ গরম ভাতে বিলাই বেজাড়। আগামীতে হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ইনসাফের বাংলাদেশ। মানবিক বাংলাদেশ। সকল জায়গায় জনস্রোত তৈরি হয়েছে। আমরা দেশকে আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই পর্যন্ত আমাদের মিছিল থামবে না, চলতেই থাকবে। আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হয়। আমি তাতে ভয় পাই না। আমি কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে ভয় পাই। দয়া করে আমাকে আর ভয় দেখাবেন না। আমার জীবন জাতির জন্য উৎসর্গ করতে পারলে তো সার্থক। আমার জন্য কোথাও গুলি তৈরি হলে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আল্লাহর সময় যখন হবে তখনই যাবো।
গণসংযোগ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মো. তসলিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিম, থানা সেক্রেটারি মো. আবু নাহিদসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও দায়িত্বশীলরা।
সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।