বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি নিজের এবং পরিবারের সুখ-শান্তি চাইলে শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে গিয়ে বিদেশে রাজকীয়-বিলাসী জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি; সারা জীবন কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালী কমিউনিটি সেন্টার চত্বরে এক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। কোনো প্রকার দুর্নীতি তাকে স্পর্শ করেনি। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ লক্ষ্যে পৌঁছাবে। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় এনে গণতন্ত্রকে রক্ষা করবেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন; তবুও কোনো আপস করেননি। সারাটা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারিনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি এবং স্বাক্ষর করেছি, আসন্ন নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে, নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ হবে। আর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করতে হবে।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস, জামিল আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান তপন, ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সদস্য সচিব শাহানা বেগম, বংশাল থানা সভাপতি ইমরুল হাসান ওয়াসিম প্রমুখ।
শোকসভা শেষে মরহুমা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক।