Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলছি—সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ‘না’ ভোট। কিন্তু কিছু দল এই বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। আমরা বিনয়ের সাথে তাদের কাছে জানতে চাই, আপনারা সংস্কারের পক্ষে নাকি ফ্যাসিবাদের পক্ষে? জনগনের সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। লুকিয়ে লুকিয়ে কথা না বলে সাহসের সাথে প্রকাশ্যে কথা বলুন।”

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনি প্রচারে নারী কর্মীদের বাধা ও লাঞ্ছনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের মায়েরা ভোট চাইতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের অপমান করছে। যারা মায়ের গায়ে হাত তোলে, তারা কোন প্রজাতির? তারা কি মানুষ নাকি অন্য কিছু, তা আমার বোধগম্য নয়। এই কয়েকদিন ধরে যে উৎপাত শুরু হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই প্রতিটি দল নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাক। মায়েদের অপমান আমরা বরদাশত করব না।”

তিনি নারী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “যদি কোনো দুর্বৃত্ত কটু কথা বলে, তবে চোখে চোখ রেখে বলবেন—আমি মা, আমি তোমাদের পরোয়া করি না; আমি কেবল আল্লাহকে ভয় করি।”

আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “এবারের ২০২৬ সালের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচন ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নির্বাচন। এটি আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী ৩৪ হাজার আহতের এবং শহীদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন। বিগত ৫৪ বছরে যে পচা ও নোংরা রাজনীতি দেশে ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই রাজনীতির কবর রচিত হবে।”

দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এ দেশের মানুষের বিজয় হলেই ইনশাল্লাহ জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত হবে। ২৪-এর ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের মূল অঙ্গীকার।”

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দলের ৬২ শতাংশই যুবক। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। আমরা তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে চাই, যাতে তারা সম্মানের সাথে দেশ গড়তে পারে।”

১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জামালপুরের ৫টি আসনেই ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জোটের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবেন। দেশের যেখানে যে প্রতীক জোটের প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েই মাঠে থাকতে হবে। আমাদের প্রার্থীরা নেতা হওয়ার জন্য নয়, জনগণের সেবক হওয়ার জন্য লড়াই করবেন।”

অনুষ্ঠান শেষে তিনি জামালপুর জেলার ৫টি আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমির ও জামালপুর সদর-৫ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।