Image description

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশব্যাপী নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্র ১৪ দলীয় জোটকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হয়েছিল বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ ৪ নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে এ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 
 
 

রায়ে মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ৪ আসামিই বর্তমানে পলাতক।

 
 

এছাড়া আসামিদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

রায়ের পঞ্চম অভিযোগে ‘অভিন্ন অভিপ্রায় ও অপরাধমূলক সংগঠন’ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের রাজনৈতিক মিত্র ১৪ দলীয় জোট দেশব্যাপী সম্মিলিতভাবে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত হামলা চালায়। এসব হামলা ছিল বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ।

রায়ে বলা হয়, মাহবুব উল আলম হানিফসহ ৪ আসামি ওই সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে জেনেশুনে ও ইচ্ছাকৃতভাবে নিপীড়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ) ও ৪(১) ধারার অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন বলে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ও পৃথকভাবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র, উসকানি, অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণে অংশগ্রহণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। এসব অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে বলা হয়।

মামলার প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, পঞ্চম অভিযোগে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা অভিন্ন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য এবং অপরাধমূলক সংগঠনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, দেশব্যাপী ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ ছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় জোট এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তামিম আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং চার আসামিকেই এ অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ১৪ দলীয় জোটকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।