Image description

নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর গ্রেপ্তার এবং এমপির নারী কেলেঙ্কারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আজ শুক্রবার জেলা বিএনপির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে তার বিষয়ে।

জেলা বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে দুটি ঘটনার কারণেই ভাগ্য বিপর্যয় হতে পারে আব্দুল আজিজের। তারা জানিয়েছেন, তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে এবং কেন্দ্রে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাঠানো হতে পারে। নানা আলোচনায় বিপর্যস্ত হয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। গতকাল তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার ছিল নুরুজ্জামান মিন্টুর রিমান্ডের শেষ দিন। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে অধিকতর তদন্তের কারণে এখনই সকল বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন খুব দ্রুতই সাংবাদিকদের সামনে সমস্ত কিছু প্রকাশ করা হবে।

এদিকে গতকাল সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব গুরুদাসপুর উপজেলায় শাকিলের কবর জিয়ারত করেন। তারা শাকিলের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। এ সময় ছাত্রদল সভাপতি শাকিল হত্যার ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানান। তিনি বলেন, শাকিলের জানাজার পর একটি শপিংমল ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটেছে। এটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের শামিল। ছাত্রদল এমন ঘটনাকে কখনোই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় যারা জড়িত আছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

ছাত্রদল নেতারা থাকা অবস্থায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলসহ জেলা বিএনপির নেতারা শাকিলের বাসায় উপস্থিত হন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, এই হত্যার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য হত্যার বিষয়ে তথ্য প্রদানে সবার সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিব এবং প্রতিমন্ত্রী পুতুলের উপস্থিতিতে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পদত্যাগের ব্যাপারে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আব্দুল আজিজ সমর্থকরা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ব্যানার, ফেস্টুন কেড়ে নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা শাকিলকে প্রথমে গুলি ও পরে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে শাকিলকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে উপজেলা হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে মারা যান শাকিল।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, শুক্রবার জেলা বিএনপির এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেই সভাতেই জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর -বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আমরা শুধু হাইকমান্ডকে আমাদের জেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত জানাতে পারি। তার সংসদ সদস্য পদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, গুরুদাসপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে আমার কোন মন্তব্য নেই। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।