দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠতে পারে রাঙামাটি। এ উপলক্ষে শহর ও আশপাশের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষের আগাম বুকিং শেষ হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তা শতভাগে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ইতোমধ্যেই ঝুলন্ত সেতুসহ কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র সংস্কার করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
রাঙামাটির প্রথম ইকো রিসোর্ট ‘রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ললিত সি. চাকমা জানান, তাঁদের রিসোর্টের ৯৫ শতাংশ কটেজ আগাম বুকিং হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বাকি কটেজগুলোও বুকিং হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, তাঁদের পর্যটন মোটেলের ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সব কক্ষ বুকিং হয়ে যেতে পারে।
শহরের হোটেল গ্র্যান্ড মাস্টারের পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন আল মামুন বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের হোটেলের সব কক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের বরণে তাঁরা প্রস্তুত। এবার অন্য বছরের তুলনায় পর্যটকের সমাগমও বেড়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপে অবস্থিত ‘দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ’ রিসোর্টের পরিচালক রাজন রক্ষিত জানান, তাঁদের রিসোর্টের ১১টি কক্ষই ১৫ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। কক্ষের পাশাপাশি তাঁবুতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও আছে। সেখানেও বুকিং পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে রাঙামাটির পাশাপাশি সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে বলেন, পাঁচ দিন পর শুক্রবার সাজেকে কিছু পর্যটক এসেছেন। অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় শনিবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে শুক্রবার তাঁদের রিসোর্টে পর্যটক তুলনামূলক কম ছিলেন।
মিশু দে আরও বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্টের সব কক্ষ বুকিং রয়েছে। ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং হয়েছে ৭০ শতাংশ কক্ষের। এখন সাজেকে পর্যটনের মৌসুম চলছে। ছুটিকে ঘিরে বুকিং আরও বাড়বে এবং পর্যটকদের ভালো সমাগম হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সমিতির আওতাধীন রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে শতভাগ বুকিং রয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। পূজার ছুটিতে সাজেকে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।