ঢাকা থেকে লালমনিরহাট বুড়িমারীগামী ‘আনাস এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে সন্তান প্রসব করেছেন আবিদা বেগম নামে এক নারী। পরিবহনের নামের সঙ্গে মিল রেখে নবজাতকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আনাস হাসান’। এ ঘটনায় ওই নবজাতকের জন্য আজীবন ভ্রমণ ‘ফ্রি’ করেছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় চলন্ত বাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাসের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
প্রসূতি আবিদা বেগমের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার ফকিরপাড়ার রমনীগঞ্জ গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। আবিদা সাভারের জিরানীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগেই তিনি মা-বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে ফিরছিলেন।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে বুড়িমারী যাচ্ছিল ‘আনাস এন্টারপ্রাইজ’ বাসটি। বাসের যাত্রী অন্তঃসত্ত্বা আবিদা বেগম রংপুর মিঠাপুকুর এলাকায় এলে প্রসব বেদনা শুরু হয়। এরপর বাস থামিয়ে বাসে থাকা পুরুষ যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ওই বাসের ভেতরে থাকা এক ধাত্রী ও অন্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসব হয়। তাৎক্ষণিক বাসে থাকা সুপারভাইজার বাসের যাত্রীদের মিষ্টি মুখ করান।
আবেদার বাবা আবেদ আলী বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছিলেন সন্তান প্রসবের আরও ২০ দিন বাকি। এজন্য মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে বাসের মধ্যে সন্তানের জন্ম হয়। মেয়ে ও নাতি দুজনই সুস্থ আছে। বাসে জন্ম হওয়ায় পরিবহনের নামে নাতির নাম ‘আনাস হাসান’ রেখেছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি পরিবহন কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন বলেন, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বাসে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে প্রসূতি আবিদা ও তার নবজাতক সন্তান আনাস হাসান সুস্থ রয়েছেন।
বাসের সুপারভাইজার মজনু হোসেন বলেন, মিঠাপুকুর আসার পর ওই নারীর প্রসববেদনা শুরু হয়। এরপর বাস থেকে পুরুষ যাত্রীদের বাইরে রেখে বাসের দুটি আসনকে সংযুক্ত করে নারী যাত্রীদের সহায়তায় একজন ধাত্রী তার সন্তান প্রসব করান। বিষয়টি বাসের মালিককে জানালে তিনি শিশুটির জন্য উপহার পাঠানোর পাশাপাশি আজীবন বিনামূল্যে বাসে ভ্রমণের ব্যবস্থা করার কথা জানান।
এদিকে খবর পেয়ে খুশি হয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ) আনাস এন্টারপ্রাইজের মালিক আলহাজ দিপু লালমনিরহাটে আসেন। পরে বাসের সুপারভাইজার মজনু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিশুর বাড়ি জেলার হাতিবান্ধায় উপজেলার ফকিরপাড়া রমনীগঞ্জ গ্রামে গিয়ে দোলনা, বেবি বেড, মশারি ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ নানা উপহার সামগ্রী দেন।
এ সময় বাসের মালিক দিপু ঘোষণা দেন, ওই শিশু আজীবন আমার কোম্পানির বাসে ‘ফ্রি’ যাতায়াত করতে পারবে।