Image description

চট্টগ্রাম আন্দোলনের ৯দিন পার হলেও স্বাভাবিক হয়নি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পরিস্থিতি। ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না সরকারের নিয়োগ দেওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।

সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

একাডেমি-প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমশঃ উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বাড়লেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। ক্যাম্পাসে যাবার জন্য নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানালেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাকে কোনোভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামে আসেন কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল ইসলাম। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন। অবস্থান করছেন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে।

অধ্যাপক শরীফুল আগামীর সময়কে বললেন, ‘চুয়েটে ডেডলক সিচুয়েশন যেটা তৈরি হয়েছে, সেটা থেকে বের হওয়ার জন্য আমি কাজ করছি। শিক্ষকদের বলেছি যে আপনারা আন্দোলন করছেন ঠিক আছে। কিন্তু উইনডো ওপেন করার পরিস্থিতিটা অন্তত রাখেন। অনেক শিক্ষক বুঝতে পারছেন। লোকাল এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী সাহেব ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। উনাদের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। আরেকটা বার্তা আমি দিতে চাই, আমি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলব। সবার সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব চুয়েট সচল করতে চাই।’

আন্দোলনের ৯ম দিনে আজ বুধবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তারা জানালেন, আন্দোলনের নয়দিন পার হলেও সরকার ও প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রশাসনের ‘চোখ বন্ধ’- প্রতীকীভাবে সেই প্রতিবাদ তুলে ধরেছেন মিছিল-স্লোগানে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির আহ্বানে আজও দিনভর শিক্ষকরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী সমিতিও একইভাবে কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের ডাকা সর্বাত্মক শাটডাউনের মধ্যে চুয়েটের মূল ফটক ও উপাচার্য ভবন এখনও তালাবদ্ধ হয়ে আছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আকস্মিক এই পরিবর্তন মানতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করেন।