সাভারের আশুলিয়ায় পরিচালনা পর্ষদের বিরোধ নিয়ে একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরে অবস্থিত তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসায় হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় বলে রাত ৯টার দিকে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।’
মাদ্রাসাটির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ইমাম হাসান ও ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা করে।’
হামলাকারীরা অফিস কক্ষ ভাঙচুর এবং কম্পিউটার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
সানজিদ আরও বলেন, ‘ইমাম হাসান আমাদের মাদ্রাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত একটি মার্কেট জোর করে দখল করেছিলেন। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়।’
বিএনপি নেতা জাকিরের নেতৃত্বে এর আগেও মাদ্রাসায় হামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে ইমাম হাসানের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টারের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে সানজিদের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন।
‘সানজিদ একজন সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত। মাদ্রাসার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সে জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছে। তাই এলাকাবাসী আজ তাদের ওখান থেকে বিতাড়িত করেছে,’ তিনি বলেন।
নিজেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদ ও দারুল এহসান ট্রাস্টের সদস্য দাবি করে জাকির জানান, তার ছেলে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তিনি একজন অভিভাবক।
জাকির বলেন, পুলিশ আসার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অনুরোধ করে চলে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হলেও ওখানে আমি যেতে পারি না। দুই দিন পরপর আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনে সানজিদ। এর আগেও আমি সানজিদের নামে মামলা করেছি।’